রাজশাহী কলেজকে বাদ দিয়ে আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, প্রশ্নের মুখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর অংশগ্রহণে আয়োজিত আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা রাজশাহী কলেজকে কোনো ধরনের পূর্বনোটিশ না দিয়েই অনুষ্ঠিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজটির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক সমালোচনা।
জানা যায়, গত ১৮ জানুয়ারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার একাধিক ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। তবে রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীরা বিষয়টি জানতে পারেন ২০ জানুয়ারি। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের অবহিত না করেই প্রতিযোগিতাগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘রাজশাহী কলেজের অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন খেলায় অংশ নিয়েছিল। যারা ভালো করেছে, তাদের জেলা পর্যায়ে খেলার কথা ছিল। কিন্তু পরে জানতে পারি, সেই খেলাগুলো আমাদের অজান্তেই অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। পুরো বিষয়টি সম্পর্কে আমরা কিছুই জানতাম না।’
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী হাসান আলী বলেন, ‘রাজশাহী কলেজ দেশের অন্যতম সেরা কলেজ। প্রতিবছর ক্রীড়াক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষার্থীরা সাফল্য অর্জন করে। অথচ এত বড় একটি টুর্নামেন্ট আমাদের বাদ দিয়েই অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।’
এ বিষয়ে রাজশাহী কলেজ ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. আবুল মজন চৌধুরী বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে এই প্রতিযোগিতা সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো ধরনের নোটিশ দেওয়া হয়নি। আমরা প্রথম জানতে পারি, যখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রাজশাহী কলেজের মাঠ ব্যবহারের কথা জানায়। তখন বলা হয়, ক্রিকেট ও ফুটবল অনুষ্ঠিত হবে। পরে জানানো হয়, ফুটবল ও ক্রিকেট বাদে অন্যান্য খেলাগুলো ১৮ জানুয়ারি ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে এবং নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে আমরা কোনো নোটিশই পাইনি।’
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মহলে প্রশ্ন উঠেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান কীভাবে দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি কলেজকে অবহিত না করেই গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করলো। দ্রুত বিষয়টির তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীরা।






