ক্যাম্পাস

সিন্ডিকেট ঘিরে উত্তাপ: কুবি উপাচার্যকে ‘হুমকি’ অভিযোগ, অস্বীকার ছাত্রদলের

155views

কুবি প্রতিনিধি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-এ সিন্ডিকেট সভা বন্ধ রাখতে উপাচার্যকে ফের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত নেতারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২৯ এপ্রিল উপাচার্যের কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে যান শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে অন্যদের বাইরে পাঠিয়ে আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল বাশার উপাচার্যের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের দাবি, এ সময় তারা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলীকে সিন্ডিকেট ও আপগ্রেডেশন কার্যক্রম বন্ধ রাখার আহ্বান জানান। এমনকি ঢাকায় সিন্ডিকেট সভা করলে তাকে কুমিল্লায় ফিরতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

তবে উপাচার্য তাদের জানান, বিশ্ববিদ্যালয় আইনের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিন্ডিকেট সভা আয়োজন করতেই হবে। তিনি বলেন, এ সভায় নতুন কোনো নিয়োগ নেই, কেবল শিক্ষকদের নিয়মিত আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে।

জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার সিন্ডিকেট সভা আয়োজনের বিধান থাকলেও গত চার মাস ধরে তা স্থগিত রয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় ১০৮তম সিন্ডিকেট সভা। পরবর্তীতে দুই দফা তারিখ নির্ধারণ করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

দীর্ঘদিন সিন্ডিকেট ও আপগ্রেডেশন বোর্ড না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ২৫ জন—যার মধ্যে ২১ জন শিক্ষক ও ৪ জন কর্মকর্তা—পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে পদোন্নতি না হলে আর্থিক সুবিধাও হারাতে হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৭ মে ১০৯তম সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে শিক্ষকদের পদোন্নতি, নতুন সিলেবাস, বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ অন্তত ৫০টি এজেন্ডা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমরা সিন্ডিকেট নিয়ে কোনো কথা বলিনি। শিক্ষার্থীদের বাস, নিরাপত্তা ও অন্যান্য সমস্যা নিয়েই আলোচনা করেছি।” সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশারও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।

অন্যদিকে, সিন্ডিকেট না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত সভা আয়োজন করে পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় সিন্ডিকেট সভা আয়োজন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ সদস্যের ব্যস্ততার কারণে এবার সভাটি ঢাকায় আয়োজন করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

Leave a Response