
এহ সানুল হক (জুবাইর), গোবিপ্রবি প্রতিনিধি
শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়–এর (গোবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সুযোগ-সুবিধা। প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য লাইব্রেরিতে রয়েছে মাত্র ২০০টি আসন। পাশাপাশি অপর্যাপ্ত ইন্টারনেট সুবিধা, প্রয়োজনীয় বইয়ের সংকট এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধার অভাবে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার অনুকূল পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে দিন দিন অনেক শিক্ষার্থী লাইব্রেরিবিমুখ হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে লাইব্রেরিতে প্রায় ৩৬ হাজারের বেশি বই থাকলেও নিয়মিত কোর্সভিত্তিক প্রয়োজনীয় সব বই পাওয়া যায় না। বিশেষায়িত বইয়েরও রয়েছে তীব্র সংকট। এছাড়া আন্তর্জাতিক জার্নাল, ই-বুক অ্যাপস এবং পর্যাপ্ত ডিসপ্লে সিস্টেমের সুবিধাও নেই। শিক্ষকদের গবেষণা সহায়তায় প্রয়োজনীয় অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম সফটওয়্যার এখনো চালু হয়নি। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য নেই কম্পিউটার, প্রিন্টার কিংবা ফটোকপি মেশিন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে বসে পড়াশোনা করছেন। দুই চেয়ারের মাঝে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় কেউ উঠলে পুরো কক্ষে শব্দ ছড়িয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত বই, প্রযুক্তিগত সুবিধা ও উপযুক্ত পরিবেশের অভাবের পাশাপাশি বাজেট সংকটের কারণেও শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
শিক্ষার্থীরা দ্রুত লাইব্রেরির আসন সংকট নিরসন, ইন্টারনেট সেবার মানোন্নয়ন, চাহিদা অনুযায়ী বই সরবরাহ, জব কর্নার স্থাপন এবং লাইব্রেরির আধুনিকায়নের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রনি সরকার বলেন,“গবেষণা ও পড়াশোনায় উদ্বুদ্ধ হতে লাইব্রেরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও লাইব্রেরির আসন বাড়ছে না। অনেক সময় পড়তে এসে জায়গা না পেয়ে ফিরে যেতে হয়। এছাড়া পর্যাপ্ত ইন্টারনেট সুবিধাও নেই। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।”
২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আলী অভিযোগ করে বলেন,“লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত বই নেই। নিয়মিত পাঠ্যবইয়ের বাইরে বইয়ের সংগ্রহও খুব কম। এছাড়া নিরিবিলি পরিবেশের অভাবে পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট হয়। আমরা সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত ও লাইব্রেরির আধুনিকায়ন চাই।”
লাইব্রেরির সার্বিক সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত লাইব্রেরিয়ান নাসিরুল ইসলাম বলেন,“বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে জায়গা ও জনবল সংকটের কারণে কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। চারতলা ভবনের পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে দুইতলা ভবনে কার্যক্রম চলছে। অটোমেশন ব্যবস্থা না থাকায় অনেক কাজ ম্যানুয়ালি করতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত বাজেটের অভাবে উন্নয়ন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত লাইব্রেরি খোলা থাকলেও সপ্তাহে ১৩টি শিফট পরিচালনায় জনবল সংকট কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। তবে সব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন,“এসব বিষয় মূলত বাজেটের সঙ্গে সম্পর্কিত। বর্তমানে সবখানেই বাজেট হ্রাস করা হচ্ছে, যার কারণে অনেক কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। বই কেনার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। আসবাবপত্রের বিষয়গুলোও ধীরে ধীরে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে সবকিছুই বাজেটের ওপর নির্ভরশীল। এ অর্থবছরের বাজেট ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।”
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে গোবিপ্রবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার সময় ১ হাজার ৪০০ বই নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে লাইব্রেরিতে একাডেমিক বই, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই, গল্প-উপন্যাসসহ মোট ৩৬ হাজার ১৫২টি বই রয়েছে। এছাড়া রয়েছে ১ হাজার ৫০০টি প্রিন্ট জার্নাল এবং ৫০০টি ম্যাগাজিন।






