ক্যাম্পাস

নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভাবনায় নতুন বছর

859views

মেহেদী হাসান, নোবিপ্রবি :

সত্য এটাই যে, কেবল শুভেচ্ছা বাস্তব জীবনে কোনো পরিবর্তন আনে না। গণমানুষের প্রত্যাশার জায়গা থেকে যেদিন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে এসে সাধারণ মানুষের থালায় পুষ্টিকর খাবার জুটবে, উন্নয়নের অন্তরায় দুর্নীতি রোধ করে মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গড়ে উঠবে এবং নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ হবে—সেদিনই অতিপরিচিত অভিবাদন ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ অর্থবহ হয়ে উঠবে।

তবুও একঝাঁক স্বপ্নের সম্ভাবনায় মানুষ বাঁচে। আত্মসমালোচনার মাধ্যমে অতীতের ভুল শুধরে সব শুভর প্রত্যাশায় নতুন বছরে নিজ লক্ষ্যের প্রতি আরও গতিশীল হতে চাই। অনবদ্য মিলনোৎসবে মেতে সব স্তরের মানুষের জীবনে প্রীতিময়তার বিস্তার ঘটুক। নতুন জীবন, নতুন স্বপ্ন ও নতুন প্রত্যাশায় পুরোনো দিনের হতাশা-গ্লানি কাটিয়ে শিক্ষার চাঞ্চল্যতা ফিরে আসুক নববর্ষে। পাওয়া–না পাওয়ার হিসাব না কষে প্রত্যয় ও সাহসে বুক বেঁধে নিজের কাজের মাধ্যমে সফলদের একজন হয়ে ওঠার আগামীর প্রতিশ্রুতি।

যা কিছু শুভ, তাই হোক সত্যি। শুভ ইংরেজি নববর্ষ। নতুন বছরে নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছে বাংলাদেশ। স্বপ্ন দেখে শান্তি, স্বস্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধির। প্রত্যাশা করে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদমুক্ত সমাজ, বিনাশ হোক অগণতান্ত্রিক অপশক্তি, জঙ্গিবাদ, ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা ও অপরাজনীতির।

নোবিপ্রবির জন্য সম্ভাবনা, প্রত্যয় ও সম্মানের নতুন বছর

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অর্পিতা পোদ্দার অর্পণ বলেন, ‘নতুন বছর মানেই শুধু ক্যালেন্ডারের পাতা বদলানো নয়—এটা নিজের ভেতরটা একটু নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ। পেছনের বছরের ভুল, ব্যর্থতা আর না-পাওয়া গুলোকে শিক্ষা হিসেবে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়। তেমনি নতুন বছর মানে নোবিপ্রবির পথচলায় আরেকটি নতুন অধ্যায়। এই ক্যাম্পাস শুধু ইট–পাথরের স্থাপনা নয়, এটি স্বপ্ন গড়ার এক জীবন্ত প্রাঙ্গণ, যেখানে প্রতিদিন তৈরি হয় আগামীর শিক্ষক, গবেষক, চিন্তাবিদ ও নেতৃত্ব।

নতুন বছরে নোবিপ্রবি হোক আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ, আরও গবেষণামুখী ও শিক্ষাবান্ধব। শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে থাকুক আত্মবিশ্বাস, কলমে থাকুক সৃষ্টিশীলতা, আর কর্মে থাকুক দায়বদ্ধতা। মতভেদ থাকলেও থাকুক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আন্দোলনের ভাষায় থাকুক যুক্তি, আর সিদ্ধান্তে থাকুক প্রজ্ঞা।

এই নতুন বছরে শিক্ষক–শিক্ষার্থী–কর্মকর্তা সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নোবিপ্রবি এগিয়ে যাক গুণগত শিক্ষা, উদ্ভাবন ও মানবিক মূল্যবোধের পথে।স্বপ্ন হোক বড়, লক্ষ্য হোক স্পষ্ট, আর নোবিপ্রবির নাম হোক দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে উচ্চারিত।

নোবিপ্রবির জন্য নতুন বছর হোক সম্ভাবনা, সাফল্য ও সম্মানের বছর। নতুন বছরে আমরা আবার স্বপ্ন দেখি, আবার সাহস করি। ভাঙা আশা জোড়া লাগাই, নতুন লক্ষ্য ঠিক করি। কারও জন্য এটা নতুন শুরু, কারও জন্য পুরনো পথেই আরও দৃঢ়ভাবে হাঁটার প্রতিজ্ঞা।এ বছর টা হোক দৃঢ় প্রত্যয়ের,অহিংসা, বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে হোক এক সম্মিলিত পথ চলার ধারা। আসুন একবছরে আমরা প্রতিজ্ঞা নেই, ছোটবেলার সেই কথা – সত্যের পথে চলবো,অন্যায়ের সাথে আপোষ করবো নাহ।

এই নতুন বছরে ভালোবাসা হোক আরও গভীর, মানবিকতা আরও শক্ত, আর আমাদের চেষ্টা আরও সৎ।

ভুল কম হোক, ক্ষমা বেশি হোক। নিজের জন্য যেমন, তেমনি অন্যের জন্যও একটু নরম হওয়া শিখি। নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক শান্তি, সুস্থতা আর সুন্দর আগামীর আলো।’

বছরের শেষে শোক, নতুন বছরে প্রত্যাশা

ওশানোগ্রাফি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম রাফি বলেন,‘বছরান্তে বছর আসে, চলতে থাকে এই আগমনী ধারা। হারিয়ে যায় কতগুলো স্বপ্ন, আশা ও আকাঙ্ক্ষা। আবার জন্ম নেয় বিচিত্র কিছু পাওয়ার ইচ্ছা। এভাবেই চলতে থাকে আমাদের স্বপ্নবাজ মন। ইংরেজি বর্ষপঞ্জির নতুন একটি বছরের দ্বারপ্রান্তে আমরা। তবে গত হওয়া এই বছরটি আমার জন্য ছিল মিশ্র অনুভূতির। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন দুই নক্ষত্রের বিদায়ে মনটা অনেকখানি বিষণ্ন। আমাদের ভাই, আমার অনুপ্রেরণা বীর শহীদ ওসমান হাদি ভাইয়ের খুনি চক্রকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করতে পারলে এই বিষণ্ন মন তৃপ্ত হবে বলে বিশ্বাস করি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিদায়ে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। পরিশেষে সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানাই।’

আমাদের থেকেই শুরু হোক পরিবর্তন

পরিসংখ্যান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান সিফাত বলেন,‘নতুন বছর, নতুন দিনের সূচনা—আমাকে নতুন দিগন্তের পথে ছুটতে উদ্দীপিত করে।পড়ালেখার টানে একদিন ঘর ছাড়লে হয়তো আর আগের মতো ঘরে ফেরা হয় না, ঘরের মানুষগুলোর সঙ্গেও কাটে না আর সেই চেনা সময়। তবু মায়ের চোখের অপেক্ষা, বাবার নিঃশব্দ ভরসা- তাদের জীবনের শেষ প্রান্তে একাকীত্ব দূর করার দায়বদ্ধতাআমার প্রতিটি আগামীর সঙ্গেই থাকবে। নতুন দিনে আমরা যদি দেশমাতৃকার পরিবর্তনের জন্য ছোট ছোট উদ্যোগ নিতে পারি, তবে নিশ্চয়ই আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম পাবে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ। পরিবর্তন শুরু হোক আমাদের থেকেই।’

ভার্চ্যুয়াল জগতের আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর হাসান বলেন,‘খারাপটা ফেলে ভালোটা গ্রহণের মাধ্যমে নতুন বছর পার করতে চাই। বর্তমানে তরুণরা বেশিরভাগই রাত জাগে এবং দেরিতে ঘুম থেকে ওঠে। সারাদিন সোশ্যাল মিডিয়া ও নেতিবাচকতার মধ্য দিয়ে সময় কাটে। তাই ভার্চুয়াল জগৎ থেকে বের হয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে যাওয়া উচিত। পড়ালেখার পাশাপাশি আমাদের উচিত দেশ ও মানুষের জন্য কিছু করা। নতুন প্রজন্ম হিসেবে দেশকে পুরো বিশ্বের সামনে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। এটি কেবল দেশপ্রেম ও ইতিবাচক মনোভাবের মাধ্যমেই সম্ভব।’

স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সচেষ্ট হবো

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম মাহি বলেন, ‘চোখের পলকে একটি বছর কেটে গেল। নতুন বছর আসছে, সঙ্গে বাড়ছে দায়িত্ব। ক্যাম্পাসে কয়েকদিন পর জুনিয়ররা আসবে, সিনিয়র হিসেবে তাদের বরণ করা, আড্ডা দেওয়া সব মিলিয়ে দায়িত্ব-কর্তব্যের শেষ নেই। করোনার অজুহাতে প্রথম বর্ষে অনেক ফাঁকি দিয়েছি। অনেক কাজই তুলে রেখেছি এই বছরের জন্য। নতুন বছরে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে পড়াশোনায় মনোযোগ দেবো। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’

ক্যালেন্ডার নয়, নতুন করে নিজেকে শুরু করার বছর।

ফলিত গণিত বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারাজানা আক্তার বলেন,‘নতুন বছর মানে ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টানো নয়, নতুন করে সব শুরু করা। পুরোনো বছরের ভুলগুলো মুছে ফেলা নয়, বরং ভুলগুলো শুধরে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়া। জীবনের সমীকরণগুলো শিউলি ফুলের মালার মতো সাজিয়ে তোলা। শীতের কুয়াশার আড়ালে যেমন অনুভূতিগুলো লুকিয়ে থাকে, তেমনি হঠাৎ সূর্যের আলোয় নতুন আত্মচেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। নতুন উদ্যোগে নতুন করে লেখা হোক নতুন অধ্যায়।’

নতুন বছরে স্বাধীন, শৃঙ্খল ও নিরাপদ বাংলাদেশের স্বপ্ন

এপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানজিলুর রহমান মুয়াজ বলেন, ‘বছর ঘুরে আবারও এসে হাজির হলো নতুন বছর। প্রাপ্তি–অপ্রাপ্তি, আশা–আকাঙ্ক্ষার সংমিশ্রণ ছিল ২০২৫ সাল। নতুন করে করার অনেক কিছুই ছিল, পরিকল্পনা ও আশা ছিল বড় পরিবর্তনের। কিছু সফল হয়েছে, কিছু হয়নি। নতুন বছরে সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের আশা থাকবে। অপ্রাপ্তির খাতাকে আবার নতুন করে জাগ্রত করতে চাই।

দেশকে স্বাধীন, শৃঙ্খল ও নিরাপদ দেখতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজারো তরুণ-তরুণী জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিল। সেই আকাঙ্ক্ষা যেন নতুন বছরে আরও বাস্তব রূপ পায়। এর জন্য প্রয়োজন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা। আমরা সকলে চাইলে আমাদের দেশকে নিরাপদ করে তুলতে পারি। সেই আশায় সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা।’

Leave a Response