ক্যাম্পাস

খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতে নোবিপ্রবির গাড়ি ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

99views

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি,

বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। আজ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি ২০২৬) নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইলের উপস্থিতিতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এ সময় নোবিপ্রবি পরিবারের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় ও বেগম খালেদা জিয়া এবং মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বীরউত্তম শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদনকালে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আসাদুন নবী, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রোকনুজ্জামান সিদ্দিকী, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জিয়াউল হক, নোবিপ্রবি প্রক্টর এ এফ এম আরিফুর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, দপ্তর প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

তবে ক্যাম্পাস থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে। পরিবহন পুলের তথ্যমতে ক্যাম্পাস থেকে ১টি সাদা বাস, ২টি কোস্টাল, ১টি সিভিলিয়ান ও ১টি মাইক্রোবাসসহ মোট ৫টি গাড়ি নিয়ে তারা কবর জিয়ারতে গিয়েছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমালোচনা করছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাস থেকে শহর ও আশপাশের এলাকায় যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত বাস না থাকায় নিয়মিত ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক সময় ক্লাস, পরীক্ষা কিংবা জরুরি কাজে সময়মতো পৌঁছানো সম্ভব হয় না। অথচ একই সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, মিছিল কিংবা কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন কাজে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাস ব্যবহারের প্রবণতা আরো বাড়বে।

১৫তম ব্যাচের ফারুক নামের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা পূর্বেই লক্ষ্য করছি যে, নোবিপ্রবির প্রশাসন শিক্ষার্থীবান্ধব না হয়ে বারবার শিক্ষক এবং কর্মচারী বান্ধব হয়ে যাচ্ছে। আমাদের ফিল্ড ট্রীপগুলোতে নোয়াখালীর বাহিরে বাস দেওয়া হয় না এই বলে যে নোয়াখালীর বাইরে বাস কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। অথচ আজকে দেখতে পাচ্ছি ২৬৬ কিলোমিটার দূরে বাস দেওয়া হয়েছে, যা নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদেরকে খুবই হতাশ করেছে।”

১৬তম ব্যাচের নুর নামের শিক্ষার্থী বলেন “আমাদের ক্লাসে যাওয়ার জন্য বাস নেই, পরীক্ষার দিনেও ভোগান্তি পোহাতে হয়। অথচ রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস পাওয়া যায় এটা চরম বৈষম্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শিক্ষার্থীদের অধিকার, কোনো দলের কর্মসূচির বাহন নয়। অবিলম্বে এই অনিয়ম বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের জন্য বাস নিশ্চিত করতে হবে।”

আইন বিভাগের ১৮তম আবর্তনের শিক্ষার্থী জাফর আহমদ সজীব বলেন, আমরা ভেবেছিলাম জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পুরোনো দিনের সেই চাটুকারিতার কালচারের পরিবর্তন আসবে, কিন্তু আজকে দেখলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করার জন্য শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারিদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ব্যাবহার করতে দিয়েছেন। যা স্পষ্টতই রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার। আপনাদের কবর জিয়ারত করতে হলে নিজের টাকা খরচ করে যান রাষ্ট্রের এবং জনগনের টাকা খরচ করে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার এই নোংরামি কে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি এবং তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে পরিবহন পুলের ফোরম্যান (সুপারভাইজার) জামাল উদ্দিন বলেন, “আজ যেসব কর্মকর্তা কর্মচারী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতে গেছেন ওনারা প্রশাসনের অনুমতি ক্রমে রিকুইজিশন নিয়েই গিয়েছেন। ১টি সাদা বাস, ২টি কোস্টাল, ১টি সিভিলিয়ান ও ১টি মাইক্রোবাসসহ মোট ৫টি গাড়ি নিয়ে তারা কবর জিয়ারতে গিয়েছেন।“

পরিবহন পুলের প্রশাসক ড. কাউসার হোসেন বলেন,” বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো স্টেকহোল্ডার চাইলে ব্যক্তিগত রিকুইজিশনের মাধ্যমে গাড়ি নিতে পারে। আর এটা প্রশাসনের সম্মতিতেই তারা গাড়ি নিয়ে গিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে নিয়ম কেউ গাড়ি নিয়ে বাইরে গেলে গাড়ি ভাড়া বাবদ ৪ হাজার টাকা ও তেলের বিল তারা বহন করবে”।

Leave a Response