সারা বাংলা

কবিরাজির নামে প্রতারণা: কিশোরীর স্বর্ণ-টাকা লুট, গ্রেফতার ৩

132views

শেরপুর প্রতিনিধি:

কবিরাজি ও তান্ত্রিক চিকিৎসার নামে ভয়ংকর প্রতারণার মাধ্যমে এক কিশোরীর কাছ থেকে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও তিন লাখের বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), জামালপুর।

শেরপুর সদর থানার মামলা সূত্রে জানা যায়, জেলার এক কাপড় ব্যবসায়ীর অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে মোছা. লুবাবা (১৩)-কে কেন্দ্র করে এ প্রতারণার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ১৭ মার্চ মামলা দায়ের করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও দেখে পারিবারিক ভালোবাসা পাওয়ার আশায় লুবাবা ‘খুরশেদ কবিরাজ’ নামের এক প্রতারকের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে প্রতারক চক্রটি ইমু অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নানা তান্ত্রিক কার্যক্রমের কথা বলে ধাপে ধাপে বিকাশে ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা হাতিয়ে নেয়।

এরপর গত ১০ মার্চ ‘ঝাড়ফুঁক’ করার কথা বলে কৌশলে কিশোরীর কাছ থেকে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ টাকা নিয়ে যায় তারা।

ঘটনার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশনায় জামালপুর ইউনিট তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকা থেকে মোছা মিয়া (২৯) ও রফিকুল ইসলাম (২৮)-কে গ্রেফতার করা হয়।

পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ এপ্রিল ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানাধীন মাসকান্দা এলাকা থেকে চক্রের মূলহোতা মনির হোসেন (২১)-কে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া তার দেখানো মতে বাড়ির পাশের বাগানে মাটি খুঁড়ে ২৫ ভরি ৯ আনা ৪ রতি স্বর্ণালংকার (আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬৪ লাখ টাকা) উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, চক্রটি ইমু অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের ব্যক্তিগত সমস্যার সুযোগ নিয়ে ‘কবিরাজি’ ও ‘তান্ত্রিক’ চিকিৎসার নামে অর্থ আদায় করত।

পিবিআই, জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত জানান, মামলার তথ্য পাওয়ার পরপরই একাধিক টিম গঠন করে অভিযান চালানো হয়। সমন্বিত প্রচেষ্টায় অল্প সময়েই মূল রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। তিনি সাধারণ মানুষকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো আর্থিক লেনদেন না করার আহ্বান জানান।

এ ঘটনায় গ্রেফতার তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Response