ক্যাম্পাস

আর্থ ডে’তে বুটেক্সে ‘প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ’: প্লাস্টিকের বদলে মিলছে বীজযুক্ত কলম

12views

বুটেক্স প্রতিনিধি

বিশ্ব ধরিত্রী দিবস (২২ এপ্রিল) উপলক্ষে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) অনুষ্ঠিত হয়েছে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির এক ব্যতিক্রমী আয়োজন-‘দ্য প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ’। বুধবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের গ্রাউন্ড ফ্লোরে বুটেক্স এনভায়রনমেন্টাল ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ছিল শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ। ব্যবহৃত যেকোনো দুটি প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিলেই তাদের দেওয়া হয়েছে একটি ‘প্ল্যান্টেবল ইকো-পেন’ বা পরিবেশবান্ধব কলম, যা ব্যবহার শেষে মাটিতে পুঁতে দিলে সেখান থেকে গাছ জন্মায়।

পরিবেশ সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণকারী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে বিশ্ব যখন টেকসই উন্নয়নের দিকে এগোচ্ছে, তখন এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। অনেকেই হয়তো একটি কলম পাওয়ার জন্য অংশ নিচ্ছেন, কিন্তু এর মধ্য দিয়েই প্লাস্টিকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে। এই উদ্যোগ অন্যান্য ক্যাম্পাসেও ছড়িয়ে দেওয়া গেলে বড় পরিসরে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আমি মনে করি।”

আয়োজকদের মধ্যে উপস্থিত এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রোমিনুর রহমান তালুকদার বলেন, “ক্যাম্পাসে প্লাস্টিক দূষণ কমানো এবং বুটেক্সকে আরও সবুজ করে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই প্রতীকী বিনিময়ের মাধ্যমে আমরা মূলত শিক্ষার্থীদের পরিবেশ রক্ষায় উৎসাহিত করতে চেয়েছি।”

বুটেক্স এনভায়রনমেন্ট ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ এএইচএস শাফি বলেন, “ছোট পরিসরের এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরাসরি প্লাস্টিক কমানো সম্ভব না হলেও আমরা সচেতনতা বৃদ্ধির দিকেই গুরুত্ব দিয়েছি। ‘গ্রিনার বুটেক্স’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে ভবিষ্যতে ট্রি প্লান্টেশন, ক্যাম্পাস ক্লিন-আপ, ওয়ার্কশপ ও সেমিনারের মতো কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। তবে নতুন ক্লাব হিসেবে নিজস্ব অর্থায়নে এটি করতে গিয়ে ফান্ডিংয়ের কিছুটা চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।”

উদ্যোগটির প্রশংসা করে এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক আব্দুল্লাহ শাহরিয়ার বলেন, “আমরা সাধারণত পরিবেশ দিবসে র‍্যালি বা মিছিল দেখে অভ্যস্ত। তবে এ ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাস্তবধর্মী সচেতনতা তৈরি করে। এটি শুধু ক্যাম্পাস পরিষ্কার রাখছে না, বরং ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব শিল্পখাত গঠনের জন্যও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করছে।”

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ১০০ জন অংশগ্রহণকারী এই ইকো-পেন সংগ্রহের সুযোগ পেয়েছেন। ‘লেটস মেক বুটেক্স গ্রিনার টুগেদার’ স্লোগানে আয়োজিত এই কর্মসূচি ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তাদের প্রত্যাশা, এ ধরনের ছোট কিন্তু কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে একটি পরিবেশবান্ধব ও সবুজ বুটেক্স গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

Leave a Response