
নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমানো নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মর্মান্তিক পরিণতির খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে নাহিদার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই হৃদয়বিদারক তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
নাহিদার ভাই জানান, মার্কিন পুলিশ তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, এক সন্দেহভাজন ব্যক্তির বাসভবন থেকে উদ্ধারকৃত রক্তের নমুনা ও মানবদেহের একটি অংশের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে সেটি নাহিদা বৃষ্টির বলে শনাক্ত হয়েছে। তবে তার দেহের পূর্ণাঙ্গ অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ স্পষ্ট কিছু জানায়নি।
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (ACCE) বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। নোবিপ্রবি থেকে কৃতিত্বের সাথে স্নাতক শেষ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (USF) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি পর্যায়ে অধ্যয়নরত ছিলেন। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যুতে তার পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গত ১৬ এপ্রিল আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের টাম্পার বাসা থেকে শেষবারের মতো দেখা গিয়েছিল নাহিদাকে। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুগারবিয়েহ নামক এক মার্কিন নাগরিককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। মূলত এই অভিযুক্তের বাসা থেকেই নাহিদার মরদেহের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল।
এর আগে নিখোঁজ হওয়া অপর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ ফ্লোরিডার ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে উদ্ধার করে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। প্রায় একই সময়ে নিখোঁজ হওয়া দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর এমন খণ্ডিত ও বীভৎস মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং নোবিপ্রবি পরিবারকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।






