সারা বাংলা

কৃষ্ণচূড়া ফুটলেও রাফিদ কিন্তু ফেরেনি

10views

ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোডের রেললাইন ঘেঁষা সেই বিকেল আজও স্পষ্ট হয়ে ভাসে স্বজন ও সহপাঠীদের স্মৃতিতে। ২০২৫ সালের ২ মে, শুক্রবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় থেমে যায় এক তরুণের স্বপ্নময় জীবন।

নিহত ইসতিয়াক আহমেদ রাফিদ ছিলেন রাজশাহী কলেজ-এর বাংলা বিভাগের স্নাতক শিক্ষার্থী এবং একজন নিবেদিতপ্রাণ আলোকচিত্রী। ফটোগ্রাফির প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই সেদিন তিনি ব্যস্ত ছিলেন ট্রেনের ভিডিও ধারণে, যা শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে তার জীবনের শেষ মুহূর্ত।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, চাকরির পরীক্ষা দিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন রাফিদ। পরীক্ষা শেষে তিনি তার খালার বাসায় অবস্থান করছিলেন। ঘটনার দিন বিকেলে খালাতো ভাই মুস্তাফিজুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে বের হন তিনি।

মুস্তাফিজুর রহমান জানান, টঙ্গী থেকে কমলাপুরগামী একটি ট্রেনের ভিডিও ধারণ করছিলেন রাফিদ। ঠিক সেই সময় বিপরীত লাইনে দ্রুতগতিতে ছুটে আসা আরেকটি ট্রেন তাকে আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পরদিন ৩ মে সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের সদাশিবপুর-হাজিপাড়া গ্রামে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে বাবা রেজাউল করিমসহ পুরো পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।

স্বজনদের ভাষ্য, রাফিদ ছিলেন শান্ত, ভদ্র ও স্বপ্নবাজ এক তরুণ। ফটোগ্রাফিই ছিল তার সবচেয়ে বড় ভালোবাসা। গ্রামের বাড়িতে এখনও সেই শোক কাটেনি। প্রতিটি কোণে রয়ে গেছে তার স্মৃতি।

সহপাঠী ও বন্ধুদের কাছেও তিনি ছিলেন এক ভিন্নমাত্রার মানুষ। তার ক্যাম্পাসের এক জুনিয়র অর্নব বলেন, “রাফিদ ভাইয়া ছবির ভেতরে গল্প খুঁজে বের করতেন। সাধারণ দৃশ্যও তার চোখে অসাধারণ হয়ে উঠত। তার তোলা ছবিগুলো এখন আমাদের কাছে অমূল্য স্মৃতি।”

আজ ২ মে ২০২৬, রাফিদের মৃত্যুর এক বছর পূর্ণ হলো। বসন্ত শেষ হয়ে আবারও বসন্ত এসেছে, কৃষ্ণচূড়া আবারও রাঙিয়েছে ক্যাম্পাস। কিন্তু সেই রঙ আর ধরা পড়বে না রাফিদের ক্যামেরায়।

তবু তার অনুপস্থিতি নিঃশব্দে টের পাওয়া যায়। কোনো বিকেলে আলো-ছায়ার ফাঁকে, কিংবা হঠাৎ কোনো ফ্রেমে চোখ আটকে গেলে মনে পড়ে -এই দৃশ্যটাও হয়তো একদিন তার ক্যামেরায় ধরা পড়তে পারত।

বন্ধুমহল, সহপাঠী ও জুনিয়রদের কাছে তিনি আজও এক প্রাণবন্ত গল্পকার, যিনি ছবি দিয়ে গল্প বলতে জানতেন। তার অনুপস্থিতি যেন এক নীরব শূন্যতা হয়ে রয়ে গেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ রাফিদ নেই। কিন্তু তার দেখার চোখ, তার ফ্রেমবন্দি সময় -সেগুলো রয়ে গেছে। তার রূহের মাগফেরাত কামনা করছেন পরিবার, বন্ধু ও সহপাঠীরা।

Leave a Response