
✒️ মোঃ খালিদ বিন ওয়ালিদ (আবির)
এবারও দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে রাজশাহী কলেজ। এইচএসসি ও অনার্স পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে অসাধারণ ফলাফল করে রাজশাহী কলেজ তার ঐতিহ্য ও গৌরবকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে দীর্ঘ সময় এই ক্যাম্পাসে পড়াশোনা করার অভিজ্ঞতা থেকে কলেজের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয়তা ও সমস্যা তুলে ধরছি।
সম্প্রতি ১০ তলা একাডেমিক ভবন নির্মিত হলেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় আরও একটি আধুনিক একাডেমিক ভবনের প্রয়োজন রয়েছে। নতুন ভবনটিতে নিয়মিত ক্লাসরুমের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লাব, সাংস্কৃতিক সংগঠনের জন্য পৃথক অফিস ও কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।
রাজশাহী কলেজের অন্যতম বড় সমস্যা পরিবহন সংকট। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ টি গাড়ি চলাচল করলেও অনেক শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে এবং অনেক ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। কলেজের নিজস্ব বাসও মাত্র একটি, যা ১৯৯৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপহার ছিল। বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা বিবেচনায় সরকারিভাবে কয়েকটি নতুন বাস বরাদ্দ এবং কলেজের নিজস্ব অর্থায়নে অতিরিক্ত বাস ক্রয় করা সময়ের দাবি।
মহারানী হেমন্ত কুমারী হিন্দু ছাত্রাবাসের অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। পুরোনো ভবনটি ভেঙে আধুনিক ও বৃহৎ পরিসরের আবাসিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে।
২৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর বিপরীতে আবাসিক সুবিধা অত্যন্ত সীমিত। ছেলে ও মেয়ে হোস্টেল মিলিয়ে মাত্র প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। তাই নতুন ছাত্র ও ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে মহিলা হোস্টেলের পাশের দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত জায়গা অধিগ্রহণ করে সেখানে একটি আধুনিক আবাসিক ভবন নির্মাণ করা যেতে পারে।
কলেজের বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক সংকট রয়েছে। শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করে যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।কলেজের অনেক কর্মচারী এখনো বেসরকারি ব্যবস্থায় কর্মরত। তাঁদের সরকারি কাঠামোর আওতায় আনা গেলে কর্মপরিবেশ উন্নত হবে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে।
রাজশাহী কলেজে একটি অত্যাধুনিক ক্যান্টিন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হলেও এখনো কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে অবস্থান করায় স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত খাবারের সুবিধা নিশ্চিত করতে দ্রুত ক্যান্টিনটি নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। এটি চালু হলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমবে এবং ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিবেশ আরও উন্নত হবে।
এছাড়াও রাজশাহী কলেজে একটি আধুনিক কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার সম্প্রসারণ, গবেষণাগার ও ল্যাবরেটরির উন্নয়ন, ক্যাম্পাসব্যাপী উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা, স্মার্ট ক্লাসরুম, শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়ন এবং খেলার মাঠ পরিচর্যার ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
রাজশাহী কলেজ শুধু রাজশাহীর নয়, সমগ্র উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র। তাই দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর মর্যাদা ধরে রাখতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আবাসন সম্প্রসারণ, পরিবহন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক উদ্যোগ কামনা করি।
লেখা : মোঃ খালিদ বিন ওয়ালিদ (আবির)






