রাজনীতি

তীব্র শীত উপেক্ষা করে হাদি হত্যার বিচার দাবিতে মধ্যরাতেও উত্তাল শাহবাগ

125views

হাড়কাঁপানো কনকনে শীত। চারদিকে যখন কুয়াশার চাদর আর নিস্তব্ধতা, তখন শাহবাগ মোড় যেন এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে গভীর রাতেও থমথমে শাহবাগ। রাত বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে মানুষও। আন্দোলনে যোগ দিতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছেন ছাত্র-জনতা।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, মধ্যরাতের হিমেল হাওয়ায় শরীর গরম রাখতে কেউ কম্বল গায়ে জড়িয়েছেন, কেউ বা একে অপরের কাঁধে হাত রেখে গোল হয়ে বসে আছেন। তবে চোখে মুখে ক্লান্তি নেই, আছে দ্রোহ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দীন আম্মার এবং ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের স্লোগান দিচ্ছেন। তাদের স্লোগানে কেঁপে উঠছে রাজপথ।

‘হাদি মানে আজাদি, হাদি মানে ইনসাফ’ ‘এক হাদির রক্ত থেকে, লক্ষ হাদি জন্ম নেবে’ ‘তুমি কে, আমি কে হাদি হাদি’ ‘ভারতের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ ‘আপোশ না হাদি, হাদি’ ‘আওয়ামী লীগের চামড়া, তুলে নেব আমরা’ ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’ স্লোগানে কম্পিত হচ্ছে শাহবাগ।

রাত ৩টার দিকে আন্দোলনে এসে যোগ দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ ও এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ। তারা এসে ছাত্র-জনতার সঙ্গে রাস্তায় বসে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।

শরিফ ওসমান হাদি হত্যায় খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে শুরু হয় আন্দোলন। রাতভর শাহবাগে অবস্থান করার ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে আধিপত্যবাদ বিরোধী লড়াইয়ের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ফ্যাসিবাদের অবশেষ নির্মূলের দাবিতে রাজপথে ছিলেন আপোশহীন। তিনি কেবল একজন সংগঠকই ছিলেন না, বরং তাত্ত্বিক ও নির্ভীক বক্তা হিসেবে তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন।

গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় এক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের গুলিতে মাথায় গুরুতর জখম হন ওসমান হাদি। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ ৬ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে ১৮ ডিসেম্বর তিনি শাহাদাতবরণ করেন। তার এই অকাল মৃত্যু সারা দেশের ছাত্র-জনতার মনে গভীর ক্ষোভ ও শোকের জন্ম দিয়েছে।

Leave a Response