ক্যাম্পাস

‘আম্মারের ঠিকানা, পাবনা পাবনা’ স্লোগানে ছাত্রদলের মানববন্ধন

180views

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের মানসিক চিকিৎসার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। সেই সঙ্গে তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের জন্য উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটি।

আজ সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনের প্যারিস রোডে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এরপর উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীবের কাছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা স্মারকলিপি জমা দেন। এ সময় তাঁরা ‘আম্মারের ঠিকানা, পাবনা পাবনা’, ‘পাগলের ঠিকানা, পাবনা পাবনা’ স্লোগান দেন।

মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল ইসলাম। এ সময় বক্তব্য দেন সংগঠনটির সভাপতি সুলতান আহমেদ (রাহী), সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান (সোহাগ), সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান (মিঠু), রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন।

শাকিলুর রহমান বলেন, ‘একজন পাগল তারুণ্যের উন্মাদনার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে যা-তা করে বেড়াচ্ছে। আমি বলতে চাই, তারুণ্যের উন্মাদনা আর মানসিক বিকার এক নয়।’

সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সুস্থ রাখার জন্য খোদার কসম, ধৈর্য ধরে আছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলতে চাই, অনতিবিলম্বে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই মানসিক ভারসাম্যহীন পাগলের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার মানসিক চিকিৎসা প্রদান না করা হয়, আমরা ধরে নেব এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের প্রত্যক্ষ নির্দেশে আমাদের বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে।’

কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এই ব্যানার ছিঁড়ে জাতীয়তাবাদী দলকে নিঃশেষ করা যাবে না। যেভাবে সে ব্যানার হাতে নিয়ে ছিড়ে ফেলে দিল, এতে আমাদের হৃদয় আজকে টুকরা টুকরা হয়ে গেছে। আমি আজ অত্যন্ত মর্মাহত। তার এই ন্যক্কারজনক কাজের জন্য ছাত্রদলের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ এবং কঠিন শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ মানসিক চিকিৎসা কেন্দ্র এবং মনোবিদ থাকা সত্ত্বেও কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা ও নিয়মিত পরিচর্যার ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, যিনি একজন মেধাবী শিক্ষার্থী, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও আচরণগত জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বলে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

Leave a Response