ক্যাম্পাস

নোবিপ্রবি ছাত্রদলের দুপক্ষে সংঘর্ষ, দুই সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ

42views

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দুই ক্যাম্পাস সাংবাদিককে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ সময় সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ মুছে দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হল ও পকেট গেটসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন দৈনিক মানবজমিনের নোবিপ্রবি প্রতিনিধি মাহি ছিদ্দিকী সিয়াম ও দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের নোবিপ্রবি প্রতিনিধি মেহেদী হাসান।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, সংঘর্ষের ভিডিও ধারণের সময় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের বাধা দেন। একপর্যায়ে মাহি ছিদ্দিকী সিয়ামের মোবাইল ফোন জোরপূর্বক আনলক করিয়ে ধারণ করা ভিডিও মুছে দেওয়া হয়। পরে ফোনে থাকা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপও পরীক্ষা করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বাংলা বিভাগের ১৭তম আবর্তনের আতিক হাসান, অর্থনীতি বিভাগের ১৮তম আবর্তনের তানভীর ভূঁইয়া, আইন বিভাগের ১৯তম আবর্তনের খাঁন মোহাম্মদ রোম্মান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১৮তম আবর্তনের ফাইসাল হোসাইন এবং কৃষি বিভাগের ১৮তম আবর্তনের এমকেএম আকরাম খান এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাহি ছিদ্দিকী সিয়াম বলেন, হলের ছাদের দিকে মারামারি ও চিৎকারের শব্দ শুনে তিনি সেখানে যান। কিছুক্ষণ পর লাইট বন্ধ হয়ে গেলে তিনি লাইট জ্বালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় আইন বিভাগের রোম্মানসহ আরেকজন তাকে ধাক্কা দেন।

তিনি আরও বলেন, পরে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকপন্থী নেতাকর্মীদের সঙ্গে সিনিয়র সহ-সভাপতিপন্থী নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তাদের পকেট গেটের দিকে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি পেছনে গিয়ে ভিডিও ধারণ করছিলেন। তখন কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরেন।

মাহি ছিদ্দিকীর অভিযোগ, তাকে ধাক্কা ও আঘাত করে মোবাইল ফোন দেখাতে বলা হয়। পরে জোরপূর্বক ফোন আনলক করিয়ে ভিডিও ফুটেজ মুছে দেওয়া হয়। এরপর হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, টেলিগ্রাম ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন অ্যাপ পরীক্ষা করে দেখা হয় তিনি কোথাও ভিডিও পাঠিয়েছেন কি না। পরে তাকে ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ না করার কথা বলে ছেড়ে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি মেহেদী হাসান বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটলে তিনি ও মাহি সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় ছাত্রদল কর্মী ফাইসাল হোসাইন তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে বলেন। পরে দুজনকে ধাক্কা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকপন্থী এবং সিনিয়র সহ-সভাপতিপন্থী নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে যান ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা।

এ ঘটনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা ও সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি। সংগঠনটির সভাপতি নাহিদুল ইসলাম বলেন, নোবিপ্রবিতে কর্মরত দুই ক্যাম্পাস সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তারা দুজনই নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সদস্য। আমরা এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর অভিযোগ দেব। ভয়ভীতিহীনভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা করার পরিবেশ তৈরির জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

অভিযোগের বিষয়ে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন বলেন, আমি এসব বিষয়ে অবগত নই। এ বিষয়ে বিস্তারিতও জানি না। তবে আমি বিষয়টি ভালোভাবে খোঁজ নিয়ে বলতে পারব।

নোবিপ্রবি প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমান বলেন, হলের প্রভোস্ট বডির সবাইকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও অবহিত করা হয়েছে। সবাই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন। আনসার সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আমরা প্রক্টরিয়াল বডির একটি সভা ডাকছি। সাংবাদিকদের হেনস্তার বিষয়েও সাংবাদিক সমিতির সভাপতির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Response