জাতীয়

ছেলের কবর থেকে লাল-সবুজ পতাকা সরিয়ে নিলেন শহীদ আনাসের বাবা

73views

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ আনাসের কবরের সেই চেনা দৃশ্যটি আজ বদলে গেছে। এতদিন যে কবরটি লাল-সবুজ জীবন্ত গাছের মাধ্যমে জাতীয় পতাকার রূপ ধারণ করে ছিল, আজ তা স্রেফ ধূসর মাটি। বিচার না পাওয়ার তীব্র ক্ষোভ আর অভিমানে কবরের সেই প্রতীকী পতাকাটি সরিয়ে ফেলেছেন আনাসের বাবা। গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর দেওয়া একটি পোস্ট এবং কবরের ‘আগের ও পরের’ ছবি বর্তমানে সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

শহীদ আনাসের বাবা তাঁর পোস্টে একরাশ ঘৃণা ও বেদনা উগরে দিয়ে লিখেছেন, “ভালো করে দেখেন, আনাসের কবরে বাংলাদেশ পতাকা আর নেই, সব গাছ উঠিয়ে ফেলেছি আমি। যেই বাংলাদেশকে ভালোবেসে আনাস শহীদ হয়েছে, আমি ওর কবরটা বাংলাদেশ পতাকা বানিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু যেই দেশে বিচার নেই, সেই দেশকে ভালোবেসে কোনো লাভ নেই। এটাই ছিল আনাসদের অপরাধ।”

তাঁর এই বক্তব্য মূলত জুলাই বিপ্লবের দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরেও খুনিদের বিচার নিশ্চিত না হওয়ার বিরুদ্ধেই এক নীরব কিন্তু শক্তিশালী প্রতিবাদ। তিনি এই বিচারহীনতাকে চরম ‘অবিচার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন—যে রাষ্ট্রের জন্য তাঁর সন্তান রক্ত দিল, সেই রাষ্ট্র কেন তাঁর সন্তানের রক্তের মূল্য দিতে পারছে না?

পোস্টের শেষ অংশে তিনি পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে বিচার চেয়ে লিখেন, “আল্লাহ আপনি তো জানেন আমরা মাজলুম। আমাদের সন্তানগুলোর হত্যাকারীর বিচার কার কাছে চাইবো? আপনি ছাড়া আমাদের কথা কেউ শুনে না, দয়া করেন আমাদের প্রতি।”

শহীদ আনাসের কবরের এই শূন্যতা এখন কেবল একটি পরিবারের শোক নয়, বরং এটি জুলাই বিপ্লবের হাজারো শহীদ পরিবারের বিচার পাওয়ার আকুতির প্রতীকে পরিণত হয়েছে। নেটিজেনরা বলছেন, যদি একজন শহীদের বাবাকে এমন মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তবে তা সমগ্র জাতির জন্য এক বড় ধরণের লজ্জা। রাষ্ট্র কি পারবে এই বাবার চোখের পানির মূল্য দিতে? না কি বিচারহীনতার অন্ধকারে এভাবেই মুছে যাবে জুলাইয়ের স্মৃতিগুলো?

Leave a Response