রাজনীতি

শীর্ষ ১০ উপার্জনকারীর ছয়জনই বিএনপির

54views

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী শীর্ষ ১০ জন উপার্জনকারীর ছয় জনই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। এর বাইরে তিনজন স্বতন্ত্র ও একজন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত।

শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপস্থাপন করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান নির্বাহী বদিউল আলম মজুমদার ও কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ।

সুজন জানায়, শীর্ষ ১০ জনের তালিকার শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লা-৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের। তার বার্ষিক আয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে টাঙ্গাইল-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আসাদুল ইসলাম। তার আয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা। প্রায় ১৯ কোটি টাকা বার্ষিক আয় নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে আছেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জাকির হোসেন পাটওয়ারী।

তালিকায় চতুর্থ বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তার আয় ৯ কোটি টাকারও বেশি। ৮ কোটি টাকার বেশি আয় নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে আছেন টাঙ্গাইল-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর।

তালিকায় থাকা বাকি পাঁচজন হলেন যথাক্রমে কক্সবাজার-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ, কুমিল্লা-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. জসীম উদ্দিন, নেত্রকোনা-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী কায়সার কামাল, চট্টগ্রাম-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম রাহী ও কুমিল্লা-৭ আসনের বিএনপির প্রার্থী রেদোয়ান আহমেদ। তাদের সবার আয় চার থেকে সাড়ে ছয় কোটি টাকার মধ্যে।

সংস্থাটি বলছে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মোট ২০২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫১৯ জন অর্থাৎ ২৫ দশমিক ৬২ শতাংশই ঋণগ্রহীতা। তাদের মধ্যে পাঁচ কোটি টাকারও বেশি ঋণ নিয়েছেন ৭৫ জন, যা মোট প্রার্থীর ১৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সর্বোচ্চ ঋণগ্রহীতা প্রার্থী রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি), যার সংখ্যা ১৬৭ জন এবং মোট প্রার্থীর ৩২ দশমিক ১৭ শতাংশ।

এতে আরও বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই হার ছিল ২২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এবার তা কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৯৩ শতাংশে।

সুজনের তথ্যে জানানো হয়, এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই স্বল্প আয়ের। প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ২ হাজার ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮৩২ জনেরই বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকার নিচে, যা শতকরা হিসাবে ৪১ শতাংশ। আর ৯৫ জনের আয় এক কোটি টাকারও বেশি।

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এবার আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে প্রতিটি দল নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছে। ফলে কিছু ব্যক্তি, যারা নিজ দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন, তারা শুধু সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য দল ছেড়ে বড় দলে যোগ দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথের কবিতার প্যারোডি করে বলতে হয়, তোরা যা-ই বলিস ভাই, আমার এমপি হওয়া চাই। কারণ ক্ষমতাই এখন অর্থবিত্তের মূল চাবিকাঠি।

‘রাজনীতি ব্যবসায় পরিণত হওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হওয়া কিংবা ক্ষমতায় যাওয়াই অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার বড় সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি আবারও প্রমাণিত হয়েছে। এটি আমাদের জন্য একটি ‘ওয়েক-আপ কল’। ভবিষ্যতে যেন ক্ষমতা ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত বা পারিবারিক স্বার্থ হাসিল না করে, সে বিষয়ে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

Leave a Response