ক্যাম্পাস

ইচ্ছা থাকলেও ভোট দিতে পারছেন না নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী

56views

ইকবাল মাহমুদ, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

ইচ্ছা থাকলেও ভোট দিতে পারছেন না নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীইকবাল মাহমুদ, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিসীমিত ছুটি, দূরপাল্লার যাতায়াতের ভোগান্তি, ভোটের পরপরই সেমিস্টার পরীক্ষা এবং আর্থিক সংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে নিজের ইচ্ছা থাকলেও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারছেন না জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে অধিকাংশই জানিয়েছেন, এটি তাদের জীবনের প্রথম ভোট হওয়ার কথা ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের দুটি ও মেয়েদের দুটি আবাসিক হলসহ মোট চারটি হলে বর্তমানে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন মেসেও অনেক শিক্ষার্থী রয়ে গেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বল্প ছুটি ও যাতায়াতের সীমাবদ্ধতার কারণে তারা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে ভোট দিতে যেতে পারেননি।

ভোট দিতে বাড়ি না যাওয়ার কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীরা জানান, ভোটগ্রহণের দুই–তিন দিনের মধ্যেই বিভিন্ন বিভাগের সেমিস্টার পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এছাড়া দিনাজপুর, পঞ্চগড়, সিলেট, বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম ও পটুয়াখালীর মতো দূরবর্তী এলাকায় স্বল্প ছুটিতে যাতায়াত করা বেশ কষ্টসাধ্য। এ কারণে ইচ্ছা থাকলেও অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি যেতে পারছেন না।

হলে অবস্থানরত চট্টগ্রাম জেলার অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ জাহান নিলয় বলেন,”আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলেও বাসা দূরে হওয়ায় ভোট দিতে যেতে পারছি না। নির্বাচনী ছুটিতে যানবাহন চলাচল খুবই সীমিত, আর যাত্রীসংখ্যা বেশি হওয়ায় ভাড়াও তিন-চারগুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। সবমিলিয়ে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারাটা সত্যিই কষ্টদায়ক।”

ক্যাম্পাসে অবস্থানরত বরগুনা জেলার ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রিমা রহমান বলেন,“আমার বাড়ি বরগুনা, যা বর্তমান অবস্থান থেকে প্রায় ৩৫১ কিলোমিটার দূরে। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এই স্বল্প ছুটিতে নির্বাচনে ভোট দিতে বাড়ি যেতে পারিনি। কারণ, ছুটি শেষের পরের দিনের মধ্যেই আমার সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা। দীর্ঘ ভ্রমণ করলে পড়াশোনার প্রস্তুতি ব্যাহত হতো। তাই বাধ্য হয়ে বাড়ি যাওয়া সম্ভব হয়নি।”

হলে অবস্থানরত খুলনা জেলার ফোকলোর বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন,”ভোটের ছুটিতে বাড়িতে না যাইতে পারার কারণ আগে থেকে ট্রেনের টিকিট না কাটাই টিকিট পাইনি। এই ছুটির কয়েকদিন পরেই আবার ঈদের ছুটি আছে, আর ছুটির পরপরই মিড পরীক্ষা। এখন যাইতে বাসের এক্সট্রা অনেক ভাড়া লাগতেছে। ৩-৪ দিন জন্য এত টাকা খরচ করে বাসায় যাওয়া আসা সম্ভব না।”

ছুটিতে বাসায় ফিরতে না পারা পঞ্চগড় জেলার নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তাসকেরাতুন নূর বর্না বলেন,”ভোট দেওয়ার প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এবার বাড়ি ফেরা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। আমার বাড়ি অনেক দূরে হওয়ায় স্বল্প সময়ের ছুটিতে যাতায়াত করা বাস্তবসম্মত ছিল না। হাতে মাত্র চার দিনের ছুটি ছিল, যা পথে আসা-যাওয়াতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। তার উপর ভ্রমণব্যয় সীমার তুলনায় একটু বেশি হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। সামনে আবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ছুটি রয়েছে, তখন পরিবারের সান্নিধ্যে থাকার পরিকল্পনাও মাথায় ছিল। সব দিক বিবেচনা করে তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়েছে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ অবশ্য থেকেই গেল। সত্যি বলতে ইচ্ছে প্রবল ছিল কিন্তু পরিস্থিতি সহায়ক হলো না।”

Leave a Response