
রাজশাহীর শীতল সন্ধ্যা। খোলা আকাশের নিচে আগুনের লাল শিখা আর ধোঁয়ার গন্ধে ভরে উঠেছে চারপাশ। তারই মাঝে প্রাণবন্ত উপস্থিতি স্কাউটদের—হাসি, গল্প আর দলগত উচ্ছ্বাসে মুখর এক আয়োজনে জমে উঠেছিল বারবিকিউ নাইট। আয়োজনটি করেছে রাজশাহী ওপেন স্কাউট গ্রুপ।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এই ব্যতিক্রমী আয়োজন কেবল খাবারের অনুষ্ঠান ছিল না; ছিল বন্ধন দৃঢ় করার এক অনন্য প্রয়াস। স্কাউট সদস্য, প্রশিক্ষক, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে সন্ধ্যা রূপ নেয় মিলনমেলায়।
সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত। আগুনে সেঁকা বারবিকিউর সুগন্ধে চারপাশ যেন হয়ে ওঠে আরও উষ্ণ। সদস্যরা নিজ হাতে প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন আইটেম পরিবেশন করেন। দলগতভাবে কাজ করা, দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া এবং সময়ানুবর্তিতার মাধ্যমে তারা স্কাউটিংয়ের মূল দর্শনকে বাস্তবে রূপ দেন।
অনুষ্ঠানে গ্রুপের নেতৃবৃন্দ বলেন, স্কাউটিং কেবল শপথ আর প্যারেডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি জীবনের শিক্ষা। পারস্পরিক সহযোগিতা, নেতৃত্বগুণ এবং সামাজিক বন্ধনই স্কাউটিংয়ের আসল শক্তি। এমন আয়োজন সেই শক্তিকে আরও দৃঢ় করে।
বারবিকিউর পাশাপাশি ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বিনোদনমূলক আয়োজন। গান আর দলীয় খেলায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। স্কাউটদের অংশগ্রহণে তৈরি হয় এক আন্তরিক পারিবারিক আবহ।
অংশগ্রহণকারী এক স্কাউট বলেন, “এই আয়োজন আমাদের শুধু আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস ও ভ্রাতৃত্ববোধও বাড়ায়।”
রাজশাহী অঞ্চলে স্কাউটিং কার্যক্রমকে আরও সক্রিয় ও প্রাণবন্ত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, ভবিষ্যতেও এমন সৃজনশীল ও ইতিবাচক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
বারবিকিউর আগুন নিভে গেলেও, সেই সন্ধ্যার উষ্ণতা থেকে যায় -সম্প্রীতি, শৃঙ্খলা আর বন্ধনের প্রতীক হয়ে। স্কাউটিংয়ের এই আলোর পথচলা যেন ছড়িয়ে পড়ে আরও দূর, আরও বিস্তৃত প্রজন্মের মাঝে।






