ক্যাম্পাস

রাকসু ভিপি প্রার্থীর ‘গোপন’ পরিচয় প্রকাশ, ক্যাম্পাসে তোলপাড়

84views

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের দেড় বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও রাকসু নির্বাচনের আলোচিত ভিপি প্রার্থী মেহেদী সজীব। এতদিন রাজনৈতিক পরিচয় অস্বীকার করলেও এবার নিজেই তা প্রকাশ্যে আনলেন তিনি।

সোমবার বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যাডে প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক পদে তাঁর স্বাক্ষরযুক্ত একটি বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করেন সজীব। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ক্যাম্পাসজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর রাকসু নির্বাচনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক তিন সমন্বয়কের নেতৃত্বে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ নামে একটি প্যানেল ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৩টি পদের মধ্যে ১৮টিতে প্রার্থী দেয় প্যানেলটি।

ওই প্যানেলে সহসভাপতি (ভিপি) পদে সমাজকর্ম বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী সজীব, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সালাহউদ্দিন আম্মার এবং সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আকিল বিন তালেবের নাম ঘোষণা করা হয়।

প্যানেল ঘোষণার পরই কয়েকজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ইসলামী ছাত্রশিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। ক্যাম্পাসে গুঞ্জন ছড়ায়, এটি শিবিরের ‘বি টিম’ বা ‘ডামি প্যানেল’। তবে সে সময় ভিপি ও জিএস প্রার্থী এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেন।

পরবর্তী সময়ে এজিএস প্রার্থী আকিল বিন তালেব, মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক প্রার্থী ফাহির আমিন এবং সহকারী মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক প্রার্থী এম শামিম প্যানেল থেকে সরে দাঁড়ান। তবু নির্বাচনে জিএস পদে জয় পান সালাহউদ্দিন আম্মার।

ভিপি প্রার্থী মেহেদী সজীব নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ালেও প্রচারণায় ছিলেন প্রায় নীরব। আলোচিত প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে ভোটের মাঠে সক্রিয় দেখা যায়নি। তখন অভিযোগ ওঠে, শিবির-সমর্থিত আরেক ভিপি প্রার্থীকে সুবিধা দিতেই তিনি নীরব ছিলেন। তবে সজীব এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি প্রচারণায় অংশ নিতে পারেননি। ভিপি পদে তিনি ৩২৩ ভোট পান।

এদিকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয়েছে প্রতিক্রিয়ার ঝড়। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নোমান ইমতিয়াজ ফেসবুকে লেখেন, “নতুন পদের জন্য শুভকামনা। পাশাপাশি সকলের ধারণাকে সত্য প্রমাণিত করার জন্য ধন্যবাদ।”

সাইফুর রহমান নামের এক সাবেক শিক্ষার্থী লিখেছেন, “হাজার শিক্ষার্থীর সঙ্গে বেঈমানি করে আত্মপ্রকাশ করেছে ছোট ভাই মেহেদী সজীব… আরও কিছু ছোট ভাই আছে, একে একে সবাই সামনে আসবে।”

রাজনৈতিক পরিচয় এতদিন গোপন রাখার কারণ জানতে চাইলে মেহেদী সজীব বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় থেকেই তিনি ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে আন্দোলন সমন্বয় করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যাতে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে কারণেই তখন পরিচয় প্রকাশ করেননি বলে জানান সজীব।

পরবর্তীতে অনুকূল পরিবেশ না থাকায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন বলেও দাবি তাঁর। পটপরিবর্তনের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রকাশ্যে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

Leave a Response