বিনোদন

অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে মুখোমুখি তিশা-অথৈ

76views

শুটিং চলাকালে চড় মারাকে কেন্দ্র করে শোবিজ অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনেছেন সহ-অভিনেত্রী সামিয়া অথৈ। সম্প্রতি মানিকগঞ্জে রাফাত মজমুদার রিংকু পরিচালিত ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকের শুটিং চলার সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান সামিয়া অথৈ।

ফেসবুকে লাইভে তিনি বলেন, ‘সোমবার প্রথম দিনের শুটিং ছিল। তানজিন তিশা আপুর জন্য একটা সুন্দর উপহার নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেটি তিনি গ্রহণ করেননি। এ নিয়ে কিছু বলিনি। প্রথম দৃশ্য শুরু করতে তিনি আমাকে মেরে হাত রক্তাক্ত করে ফেলেছিলেন। মনিটরে দেখে শহীদুজ্জামান সেলিম ভাই ও রিংকু ভাই জানতে চাইল তোমাকে এভাবে মারল কেন? এক পর্যায়ে বলি, এর আগে যখন মুশফিক ফারহানের সঙ্গে নাটকে কাজ করতাম তখন তিশা আপু ফোন দিয়ে থ্রেট দিয়েছিল যে, ফারহানের সঙ্গে কাজ করতে পারবে না।’

অথৈ বলেন, ‘শুধু আমাকেই নয়, কেয়া পায়েলসহ অনেককেই এমন থ্রেট দিয়েছিলেন তিনি। কেন কাজ করব না জানতে চাইলে উত্তরে তিশা আপু বলেন, ফারহান আমার জামাই হয়। বিষয়টি ফারহানকে জানিয়েছিলাম। সেটি এক-দুই বছর আগের কথা। সেই ক্ষোভ তিনি নিজের মধ্যে পুষে রেখেছেন কি না জানি না।’

এই অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘আজ শেষ দৃশ্যে তিশা আপুকে চড় দেওয়ার বিষয় ছিল। চড় খেয়ে তিনি চলে যাবেন। টেকনিক্যালি আস্তে করে তিশা আপুর গালে হাত লাগিয়েছি সিনের প্রয়োজনে। কিন্তু তিশা আপু সিনের মধ্যে আমাকে জোরে জোরে মেরেছেন। আমার চোখ ফুলে গেছে। কথা বলতে সমস্যা হচ্ছে। তিনি এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করেছেন।’

সামিয়া অথৈ বলেন, ‘এমন করার কারণ জানতে চাইলে তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। জানি না তিনি কিছু খেয়েছিলেন কি না। কারণ এর আগের দিনও এমন খারাপ আচরণ করেছেন। ৪০ থেকে ৫০ মিনিট বাথরুমে ছিলেন। কি খায় জানি না। তার গা থেকে দুর্গন্ধ আসে। পাগলের মতো আচরণ করেছেন।’

এ বিষয়ে তানজিন তিশা বলেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ ছিল না; যা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ চরিত্রের প্রয়োজনে এবং গল্পের চাহিদা অনুযায়ী। যতটুকু স্ক্রিপ্টে আছে, ততটুকুই করেছি। আমি চরিত্রের বাইরে কিছুই করিনি। আমি এতক্ষণ শুটিং করছিলাম। আমি চাইনি দৃশ্যটা শেষ না করে কাজটা ফাঁসিয়ে দিতে। অথচ যে লাইভটা করেছে, সে কিন্তু ইউনিটকে ফাঁসিয়ে দিয়ে গেছে।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু আমার চরিত্রটা প্লে করেছি। এখানে আমি একজন স্পেশাল চাইল্ড আমি যেটিকে অটিস্টিক বলি। যে কি না চরিত্রের প্রয়োজনে মারতে পারে, কামড় দিতে পারে, পানিতে চুবিয়ে মেরে ফেলতে পারে- এ রকম অনেক ঘটনা ঘটাতে পারে। কাজটা রিলিজ হলেই দেখতে পারবেন। কিন্তু সে এমনভাবে লাইভ করেছে যেন আমি তাকে পার্সোনালি অ্যাটাক করেছি। রাফাত মজুমদার রিংকু বলেন, দৃশ্যটি যেমন ছিল, তানজিন তিশা তাই করার চেষ্টা করেছে। হয়তো টেকনিক্যালি থাপ্পড় জোরে লেগেছে। এমন ঘটনা অনেক সময় না চাইতেও হয়ে যায়। গল্পে আরও দৃশ্য রয়েছে- তিশাকে আরও দুটি ছেলে ধরতে এসেছে সে তাদের কামড় দিয়েছে। অনেকে দেখলাম এটা স্ট্যাট্যাস দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে নানা কথা বলছেন। ভুল বোঝাবুঝির অবসান হোক।

ঘটনাটি নিয়ে গতকাল এক বিবৃতি দিয়েছে অভিনয়শিল্পী সংঘ। সংগঠনটি জানায়, কোনো পেশাজীবী যদি বন্ধুপ্রতিম সংগঠনের সদস্যদের জটিলতা সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে অবহিত না করে আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গণমাধ্যমে প্রচার করলে সেটি শিল্পী সংঘের সংগঠন পরিপন্থী। এসব ঘটনা সুরাহা হওয়া উচিত নইলে একতরফাভাবে উপস্থাপিত হলে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী সংগঠন ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি নষ্ট হয়, বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

Leave a Response