ক্যাম্পাস

সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচার দাবিতে জবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ

59views

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবিতে উপাচার্য (ভিসি) ভবন ঘেরাও ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

শনিবার (৮ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ, শহীদ সাজিদ ভবন প্রদক্ষিণ শেষে ভিসি ভবনের সামনে গিয়ে সমাবেশে রূপ নেয়। পরে তারা ভিসি ভবনের সামনে অবস্থান নেয় এবং হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

‎এ সময় মানি না মানবো না, অথর্ব প্রশাসন, দলকানা প্রশাসনে মানি না মানবো না, সাংবাদিকদের উপর হামলা কেনো প্রশাসন জবাব দে স্লোগান দেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক এবং এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। সাংবাদিকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও শিক্ষার্থীদের সমস্যা তুলে ধরেন বলেই একটি গোষ্ঠী তাদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

এসময় বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহিদী হাসান হিমেল। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থী–বান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকল সাংবাদিকের নিরাপত্তা, অবাধ স্বাধীনতা এবং মতাদর্শের ভিন্নতা সত্ত্বেও গণতন্ত্র চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করার পক্ষে আমরা সবসময় অবস্থান নিয়েছি। এ কারণে ছাত্রদল কখনো কোনো ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন বা সমিতির কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করেনি।

অথচ ব্যর্থ প্রশাসন সাংবাদিক সমিতি ও জকসুকে ব্যবহার করে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে লেলিয়ে দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার সুযোগ তৈরি করেছে। সাংবাদিকদের ওপর এ হামলার প্রতিবাদ এবং ব্যর্থ প্রশাসনের পদত্যাগের দাবিতেই আজকের এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “গত ৫আগস্টের পর মব স্মৃতির মাধ্যমে ছাত্রশিবির-পন্থী কিছু সাংবাদিক সাংবাদিক সমিতি দখল করে নেয়, যার ফলে সমিতির একটি অংশ বাইরে থেকে যায়। অতীতেও দেখা গেছে, সব সময় একটি পক্ষকে বাইরে রেখে সমিতি পরিচালনার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা শুরু থেকেই সবাইকে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুন্দর সাংবাদিক সমিতি গঠনের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছিলাম, কিন্তু তা পাইনি; বরং ব্যর্থ প্রশাসন রাতের অন্ধকারে গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে। পূর্ববর্তী গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে থাকার বিধান থাকলেও সেটি বাতিল করা হয়েছে।”

এ ছাড়াও সদস্য সচিব সামছুল আরেফিন বলেন, “এই প্রশাসন থাকার কোনো অধিকার নেই। ক্যাম্পাসের সামনে আহত সাংবাদিকরা ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি, অথচ তাদের দেখার সময়ও তাদের নেই। তারা আমাদের ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করলে তা প্রতিহত করা হবে। সময় থাকতে পদত্যাগ করুন।”

এ সময় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক, জাফর আহমেদ, সুমন সরদার, মো. মোস্তাফিজুর রহমান রুমি, মো.শাহরিয়ার হোসেন, মাহমুদুল হাসান, রবিউল আউয়াল, নাহিয়ান বিন অনিক, শাখাওয়াত হোসেন পরাগ, মিয়া রাসেলসহ ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রদল সমর্থন জানিয়ে ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফয়সাল আহমেদ সহ অনেক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ৫ মার্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় অন্তত ১২ জন সাংবাদিক আহত হন। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।

Leave a Response