
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সাভারের ইসলামনগর এলাকার ভাড়া বাসা থেকে রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে শারমিন জাহান নামে ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
শারমিন জাহান জাবি লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি চাঁদপুরের কচুয়া এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার পর তার স্বামী ফাহিম আল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
নিহতের স্বামী ফাহিম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, রোববার সকালে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই ঢাকায় গিয়ে মোবাইল ফোন কেনার কথা ছিল। কিন্তু শারমিন শারীরিকভাবে অসুস্থ (লো ব্লাড প্রেসার) অনুভব করায় ফাহিম একাই ঢাকায় যান। পরে ঢাকা থেকে শারমিনকে একাধিকবার মেসেজ দিলেও কোনো উত্তর পাননি। এদিকে শারমিনের মাও ফোনে মেয়েকে না পেয়ে ফাহিমকে ফোন করেন।
দুপুর ৩টার দিকে ফাহিম বাসায় ফিরে সামনের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ দেখতে পান। বারবার ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পাওয়ায় বাড়িওয়ালার উপস্থিতিতে পেছনের দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি। ভেতরে ঢুকে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত ও রক্তাক্ত অবস্থায় শারমিনকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।
ফাহিম বলেন, এ সময় তার স্ত্রীর শরীরের উপরিভাগে কোনো কাপড় ছিল না। পরে বাড়িওয়ালার সহায়তায় কাপড় পরিয়ে তাকে দ্রুত সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শারমিনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফাহিম আরও বলেন, বাড়িতে যাওয়ার জন্য তারা একটি লাগেজ গুছিয়ে রেখেছিলেন, যা ঘরের ভেতর এলোমেলো অবস্থায় পড়ে ছিল। এ ছাড়া ঘটনার পর থেকে শারমিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপটি পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও ডাকাতি কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ প্রশাসনকে জোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে কাজ করছে। নিবিড় তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে ডিবি ও সিআইডিকে ডাকা হয়েছে। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় এ বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট করে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।






