ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস থেকে আদালত পাড়ায় একসাথে দুই বন্ধুর স্বপ্নজয়

59views

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন। ১৭৫ একরের অচেনা ক্যাম্পাস, নতুন মুখ। সেই ভিড়ের মধ্যেই পরিচয় হয়েছিল হাসানুর রহমান ও রাফিউল আলম রাফির। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ বর্ষের সেই পরিচয়টা যে কেবল বন্ধুত্বের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে পেশাজীবনের সফলতার সমান্তরাল পথ হবে, তা হয়তো সেদিন তারা নিজেরাও ভাবেননি।

দীর্ঘ ছয় বছরের পথচলায় একই সাথে ক্লাস, আড্ডা, খুনসুঁটি আর একই রুমে রাত জেগে পড়ার টেবিল ভাগাভাগি করেছেন তারা। সেই অটুট বন্ধুত্বের রসায়ন এবার পূর্ণতা পেল পেশাগত সাফল্যে। সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডভোকেটশিপ এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তারা দুইজনসহ ব্যাচের চল্লিশ জন এখন ‘অ্যাডভোকেট’। তবে অন্যদের তুলনায় তারা ব্যতিক্রম ও সেরাদের সেরা হয়ে উঠেন হন ২০২৫ সালে আয়কর আইনজীবী (ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার) হওয়ার গৌরবের মধ্য দিয়ে।

হাসানুর রহমানের বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশায়, আর রাফিউল আলম রাফির বাড়ি পিরোজপুর সদরে। দূরত্ব কয়েকশ মাইলের হলেও ইবির আইন বিভাগ তাদের এক সুতোয় গেঁথেছিল। দুজনেই স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়ে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাদের এই পথচলা ছিল লক্ষ্যনিষ্ঠ। ২০২৪ সালে পরীক্ষা দিয়ে ২০২৫ সালে তারা যখন আয়কর আইনজীবী হিসেবে স্বীকৃতি পান, তখন থেকেই শুরু হয় বড় স্বপ্নের পথে চূড়ান্ত লড়াই। অবশেষে ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ প্রকাশিত বার কাউন্সিলের ফলাফলে তারা সফলতার চূড়ান্ত সোপান স্পর্শ করেন।

নিজেদের এ অর্জনের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তারা বলেন, “আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া। শুরু থেকেই এই পথে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ছিল। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, ধৈর্য ও অপেক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এই সাফল্যের পেছনে আমাদের পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুপ্রেরণা এবং সমর্থন বড় ভূমিকা রেখেছে। তাদের দোয়া ও সহযোগিতা আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছে।

বিশেষায়িত আয়কর আইন পেশায় আগ্রহের কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, “দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো শক্তিশালী করতে আয়কর খাতের ভূমিকা অপরিসীম। এখানে স্বচ্ছভাবে কাজ করার সুযোগ যেমন আছে, তেমনি রয়েছে সামাজিক মর্যাদা। ডকুমেন্টস ভিত্তিক কাজ হওয়ায় এখানে দ্রুত দক্ষতা প্রমাণ করা সম্ভব।”

তবে এই পথ সহজ ছিল না। আইন নিয়ে পড়লেও আয়করে ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টিংয়ের জটিল বিষয়গুলো তাদের জন্য ছিল নতুন। দক্ষ সিনিয়রের অভাব আর ভিন্নতর সিলেবাসের কারণে অনেক রাত তারা একসাথে নির্ঘুম কাটিয়েছেন বিশেষ গাইডলাইনের খোঁজে। প্রচলিত অ্যাডভোকেট হওয়ার সামাজিক চাপের বাইরে গিয়ে বিশেষায়িত সেক্টরে নিজেদের প্রমাণ করাটা ছিল তাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।

ক্যাম্পাস জীবনের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে তারা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। একই রুমে থাকা, পরীক্ষার আগের রাতে একে অপরকে পড়া বুঝিয়ে দেওয়া, আর ব্যর্থতার মুহূর্তে একে অন্যের কাঁধে হাত রাখা—এই সবকিছুর মিশেলেই আজকের এই সাফল্য। তাদের মতে, “বন্ধু যখন সহযোদ্ধা হয়, তখন কঠিন পথও অনেক সহজ হয়ে যায়।”

নবীনদের উদ্দেশ্যে তারা বলেন, লক্ষ্য স্থির রেখে পরিকল্পিতভাবে পরিশ্রম করতে হবে। আইনের মৌলিক বিষয়ে দক্ষতার পাশাপাশি অভিজ্ঞদের থেকে সঠিক গাইডলাইন নেওয়াটা সাফল্যের চাবিকাঠি।”

Leave a Response