ক্যাম্পাস

আনন্দঘন ঈদ উদযাপনে নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

177views

মেহেদী হাসান, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশির উচ্ছ্বাস। ঈদ মানেই দীর্ঘ ছুটি, যেখানে অবসর সময়ের নেই কোনো অভাব। ঈদ মানে বন্ধুদের সাথে আনন্দে মেতে ওঠা, আর ব্যস্ত জীবনের মাঝেও পরিবারকে একটু সময় দেওয়া। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে পবিত্র ঈদুল ফিতর, যা নিয়ে সবার মাঝেই থাকে বিশেষ আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস। তবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই আনন্দ ও প্রত্যাশা যেন একটু বেশি। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই একজন শিক্ষার্থীকে বছরের বেশিরভাগ সময় পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের থেকে দূরে থাকতে হয়।

একাডেমিক ব্যস্ততার কারণে অনেক সময়ই হঠাৎ করে বাড়ি ফেরা সম্ভব হয় না। তাই এই ব্যস্ততার মাঝেই বছরের সবচেয়ে দীর্ঘ ছুটি হিসেবে আসে ঈদুল ফিতর।এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দূর-দূরান্তে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ছুটে যায় আপন ঠিকানায়—প্রিয় পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আনন্দঘন সময় কাটানোর আশায়। ঈদের এই ছুটি তাই তাদের কাছে শুধু উৎসবই নয়, বরং প্রিয়জনদের সাথে মিলনের এক বিশেষ উপলক্ষ।

এবারের ঈদ নিয়ে কি ভাবছে নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা? তাদের ঈদ ভাবনা তুলে ধরেছেন নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি সদস্য মেহেদী হাসান।

ঈদ আমার কাছে অনুপ্রেরণা, আনন্দ ও প্রাপ্তির এক অনন্য মুহূর্ত

ঈদ একটি বিশেষ দিন। ঈদের আনন্দ ও উৎসবের আমেজ আমাকে ভীষণভাবে উদ্দীপ্ত করে। দীর্ঘদিন পর বাসায় এসে এখন প্রতিদিনই যেন ঈদের মতো লাগছে। রোজা রেখে সারাদিন ক্লাস করা, সেহরিতে কোথায় বা কী খাব এসব চিন্তা, তার সাথে সিটি ও প্রেজেন্টেশনের চাপ সবকিছু থেকে যে সাময়িক রেহাই পেয়েছি, সেটাই যেন ঈদের আনন্দকে আরও চারগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন বুঝতে পারি যারা পরিবার থেকে দূরে থাকে তারা কেন ঈদকে ঘিরে এতটা উদ্দীপ্ত থাকে। পরিবারের সাথে কিছুটা সময় কাটানো, আড্ডা দেওয়া, ভালোবাসা ভাগাভাগি করা কিংবা ছোটবেলার বন্ধুদের নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওয়া,সব মিলিয়ে ঈদকে ঘিরে এক অন্যরকম আবেগ কাজ করে।তবে ক্যাম্পাসে কাটানো রমজানের দিনগুলোও (আলহামদুলিল্লাহ) ভীষণ সুন্দর ছিল। প্রথম রোজা থেকে শুরু করে বন্ধুদের সাথে একসাথে মসজিদে যাওয়া, হুটহাট করে ইফতারের আয়োজন, একে অপরকে ইফতারের দাওয়াত দেওয়া সবকিছুই ছিল খুব স্মরণীয়। ইফতার উপলক্ষে ক্যাম্পাসের সেন্টাল ফিল্ডে আলোকসজ্জা, সন্ধ্যাবেলা পকেট গেটে বন্ধুদের সাথে চায়ের আড্ডা, ভোর রাত পর্যন্ত কার্ড খেলা, সেহরির জন্য জুনিয়রদের সাথে মিলে রান্না করা,এসব মুহূর্ত আমার জীবনের সেরা স্মৃতিগুলোর একটি হয়ে থাকবে। রাতের ঠান্ডা বাতাসে ফুলে ভরা নোবিপ্রবির রাস্তা দিয়ে হেঁটে বেড়ানো মনকে এক অদ্ভুত প্রশান্তি দিত। ঈদ শেষ হয়ে আবার ক্যাম্পাসে ফিরলে হয়তো রমজানের এই মুহূর্তগুলোই সবচেয়ে বেশি মিস করবো। আমার বিশ্বাস, ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই ফুটে ওঠে যখন এই আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। ক্যাম্পাসে এমন অনেক পরিচিত বন্ধু ও জুনিয়র আছে, যাদের কাছে ঈদ কখনো কখনো ক্লান্তি আর সীমাবদ্ধতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।আলহামদুলিল্লাহ, এই ঈদেও এমন দুজন মানুষের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ হয়েছে।আমি মনে করি আমরা যদি প্রত্যেকে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী একটু করে পাশে দাঁড়াই, তাহলে ঈদের আনন্দ সত্যিই সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়বে এবং চারপাশ ভরে উঠবে আনন্দের ফুলে।ঈদ আমার কাছে একটি নতুন শপথের নাম নিজেকে পুনর্জাগরণের জন্য এটি সবসময় আমাকে পথ দেখায়।এই অসামান্য অনুভূতিপ্রবণ উৎসবমুখর ঈদ আমাদের সবার জীবনে নিয়ে আসুক অনাবিল আনন্দ। ঈদ মোবারক।

মোহাম্মদ আবুজর শফিক, পরিসংখ্যান বিভাগ, সেশন :২০২০-২১

শৈশবের ঈদ থেকে বড় হওয়ার ঈদ অনুভূতির ভিন্নতা

সময় যত এগোয়, ঈদের অনুভূতিও তত বদলাতে থাকে। ছোটবেলায় যে ঈদ ছিল সীমাহীন উত্তেজনা আর আনন্দে ভরা, বড় হতে হতে সেই অনুভূতিগুলো অনেক সময় শান্ত, নিরব কিংবা কখনো কখনো ফাঁকা ফাঁকা লাগতে পারে। এর পেছনে হয়তো বেড়ে যাওয়া দায়িত্ব, মানুষের পরিবর্তন কিংবা জীবনের লক্ষ্যগুলো সামনে চলে আসার প্রভাব কাজ করে।তবুও ঈদ আমাদের জীবনে এক বিশেষ বিরতি এনে দেয়। ব্যস্ততার ভিড়ে নিজের ভেতরের সাথে কথা বলার, একটু থেমে ভাবার সুযোগ তৈরি করে। আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি, কাদের হারিয়েছি, আবার কাদের পেয়েছি—এসব ভাবার সময় দেয় ঈদ। আনন্দটা হয়তো আগের মতো সরব নয়, কিন্তু তার গভীরতা অনেক বেশি।

হাবিবুল্লাহ রাকিব, পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, সেশন ২০২০-২১

কেউ ঈদের খুশি থেকে বঞ্চিত না হোক

নতুন বাংলাদেশের প্রথম ঈদের সবাইকে অগ্রিম শুভেচ্ছা। ২০২৬ এর  এই রমজানের ঈদে গতবারের রমজানের চেয়ে অনেক বেশি পার্থক্য দেখতে পাচ্ছি । মুক্ত গণ মাধ্যম থাকার কারনে আমরা ছোট থেকে বড় সব অপরাধ জানতে পারছি। সেই সুবাদে ই আমাদের মনে হচ্ছে অপরাধ আগে থেকে বেড়ে গেছে । যেহেতু সামনে ঈদ তাই বিভিন্ন ধরনের সিন্ডিকেট চেষ্টা করবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করতে। এক্ষেত্রে সরকারের কাছে অনুরোধ, একটু নজর দিন যেন দেশের সকল শ্রেণীর মানুষ যেন ভালোভাবে ঈদ  উদযাপন করতে পারে।  আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করার জন্য যারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে তাদেরকে শক্ত হাতে দমন করতে হবে। ধনী, গরিব সবাই যেন ভালোভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারে, কেউ যেন ঈদের খুশি থেকে বঞ্চিত না হয় ।  আমরা সকলেই চাই সকলের  ঈদটা ভালোভাবে কাটুক। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকুক,কেউ যেন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয় সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।

আরিফ হাসান, ব্যাবসায় প্রশাসন বিভাগ, সেশন :২০২৩-২৪

এখনো ঈদ আসে কিন্তু অনুভূতির জগতে ভাটা পড়েছে

মনে পড়ে সেই সোনালী অতীতের কথা। এখনো ঈদ আসে কিন্তু ওই অনুভূতিগুলো আর নেই। বড় হওয়ার সাথে সাথে কেন জানি সব ভালো লাগার জগতে ভাটা পড়তে শুরু করেছে। এখনো নতুন কাপড় কেনা হয়, হয় ভোরে উঠে প্রস্তুত হওয়া, একসাথে নামাজে যাওয়াটাও আগেই মতই আছে সাথে সালামী পাওয়াটাও। কোলাকুলির রেওয়াজটা আজও শেষ হয়নি; শুধু ঝরে গেছে অনুভূতির বাগানে সাজানো হাজারো গোলাপের সুরভিত পাপড়ি আর সাথে করে নিয়ে গেছে ঈদ আনন্দ, ভালোলাগা, উৎকন্ঠা, উচ্ছ্বাস আর অন্তর গহিনে গেঁথে থাকা চিনচিনে সুখটুক। তবুও চলছে চলুক অনবরত সময় সূচিত হোক স্মৃতির ফল্গুধারা। হৃদয়ের গহীন থেকে সবাইকে জানাই ইদের শুভেচ্ছা। ইদ মোবারক।

তানভীর হাসান, ব্যাবসায় প্রশাসন বিভাগ, সেশন:২০২৩-২৪

ক্যাম্পাস জীবনের ব্যস্ততার মাঝে ঈদ এক টুকরো প্রশান্তি

আমার কাছে ঈদ শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি আনন্দ, ভালোবাসা ও মানবিকতার এক অপূর্ব মিলনমেলা। সারা বছরের ব্যস্ত পড়াশোনা ও ক্যাম্পাস জীবনের মাঝে ঈদ আমাদের জীবনে নিয়ে আসে একটুকরো প্রশান্তি ও আনন্দের বার্তা। ঈদ মানেই পরিবারের সঙ্গে একত্র হওয়া, নতুন কাপড় পরা, আত্মীয়-স্বজন ও পুরোনো বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করা। ছোটদের সালামি দেওয়া এবং বড়দের কাছ থেকে সালামি নেওয়ার আনন্দও ঈদের বিশেষ আকর্ষণ।বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার কারণে বছরের বেশিরভাগ সময় ক্যাম্পাসে কাটাতে হয়। তাই ঈদের সময় বাড়ি ফেরা, পরিবারের সবার সঙ্গে একসঙ্গে সময় কাটানো এবং প্রিয় মানুষদের কাছে পাওয়ার অনুভূতিটা সত্যিই অন্যরকম। এই সময়টুকু আমাদের সবার জীবনে নতুন আনন্দ ও ভালোবাসার বার্তা নিয়ে আসে।

মাহবুবা রহিম রিচি, ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন সাইন্সেস বিভাগ, সেশন :২০২৩-২৪

Leave a Response