ক্যাম্পাস

স্বাধীনতার চেতনায় শিক্ষার্থীদের ভাবনা

110views

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে স্মরণ করা হয় বাঙালির গৌরবময় আত্মত্যাগ আর সংগ্রামের ইতিহাস। স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ, এর অর্জন ও চ্যালেঞ্জ এই প্রজন্ম তা কতটা অনুভব করে এবং কীভাবে মূল্যায়ন করে এসব নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন ইকবাল মাহমুদ

লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী, তরুণ উসীয়মান কবি ও লেখক ইস্রাফিল আকন্দ রুদ্র বলেন, “২৬ এর ২৬ মার্চ। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ৫৬ তম স্বাধীনতা দিবস।স্বাধীনতা বারবার থমকে যায় চরম রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নে। স্বাধীনতা দিবসে চাওয়া আমাদের পরম আকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা সকল অস্থিরতা পেরিয়ে জেগে থাকুক সর্বময়ে, সবসময়ে। এই দিনে আমরা শপথ করি, মুক্তির পথ যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয়। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারে এগিয়ে যাক আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ।”

পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী হিমু দেবনাথ বলেন, “২৬ মার্চ আমার কাছে এক গভীর আবেগ ও গৌরবের প্রতীক, যা রক্তঝরা ইতিহাসের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের শিখিয়েছে সাহস, ঐক্য এবং আত্মমর্যাদার প্রকৃত মূল্য যেন প্রতিটি শহিদের ত্যাগ আজও আমাদের হৃদয়ে এক দীপ্তিময় আলো জ্বালিয়ে রাখে। স্বাধীনতা শুধুই অর্জন নয়, এটি একটি চিরন্তন দায়িত্ব যাকে প্রতিনিয়ত রক্ষা করতে হয়, যত্ন নিতে হয়, এবং আমাদের ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে তার আলোকে আরও উজ্জ্বল করা যায়। আজও প্রশ্ন জাগে, আমরা কি সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন করতে পেরেছি? সমাজে এখনও কিছু অবিচার ও বৈষম্য রয়ে গেছে। তবুও আশার দীপশিখা জ্বলছে। আমাদের সততা, সচেতনতা, এবং দেশপ্রেম একদিন স্বাধীনতার পূর্ণ অর্থকে সত্যিই দীপ্তিময় করে তুলবে। শহিদদের সাহস এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অদম্য আত্মত্যাগ আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়, যেন আমরা দেশের ভবিষ্যতকে আরও উজ্জ্বল, শক্তিশালী এবং গৌরবময় করে তুলতে পারি।”

ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী বুশরা তাসনিম বলেন, শুধু স্বাধীনতার তৃষ্ণার জন্যই বাঙালি দীর্ঘ ২৩ বছরের নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ছিনিয়ে এনেছিলো স্বাধীনতা। স্বাধীনতা তৃষ্ণা,অস্ত্রধারী অপশক্তির বিরুদ্ধে যখন লড়াই করার জন্য কিছুই ছিলনা হাতে, তখন ছিল স্বাধীনতা পাওয়া তীব্র আকাঙ্ক্ষা,স্বাধীনতার চেতনা,তৃষ্ণা। যেই তৃষ্ণা বাঙালীকে নিয়ে গিয়েছিল স্বাধীনতার ঘাটে। ২৩ বছরের দীর্ঘ শাসনকে গুঁড়িয়ে দিয়ে যখন স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনলো বাঙালি বীরেরা, তখন সবাই জেনে গেলো এ এক চেতনা যা ক্ষয়হীন অস্ত্র। তাই স্বাধীনতা চিরউদ্দীপ্ত, যত্নে রাখা ভালোবাসা, শক্তি, দায়িত্ব যা আগলে রাখতে পারলেই সফলতা। স্বাধীনতা দিবসের মূল শিক্ষা হলো দেশপ্রেম, সততা ও দায়িত্ববোধ। আমাদের মনে রাখতে হবে স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা বেশি কঠিন। তাই দুর্নীতি বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে একটা সুন্দর দেশ গড়ে তোলাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।”

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তাসমিয়া তাবাসসুম অর্পিতা বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে সূচিত, যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এর আগে পাকিস্তানি শাসকদের দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও ২৫ মার্চের নির্মম হামলা বাঙালিদের স্বাধীনতার পথে এগিয়ে দেয়।এই দিবস আমাদের ঐক্য, ত্যাগ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তির বার্তা দেয়। স্বাধীনতার উদ্দেশ্য ছিল শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নত দেশ গঠন। কিছু ক্ষেত্রে আমরা সফল হলেও দারিদ্র্য, দুর্নীতি ও বৈষম্যের কারণে তা পুরোপুরি অর্জিত হয়নি।আমরা স্বাধীনতা বজায় রাখতে সক্ষম হলেও নানা চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে। তাই স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে সকলকে সচেতন, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে।”

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আকাশ দেব বলেন, ” ২৫ শে মার্চ রক্তক্ষয়ী প্রতিহিংসার এক ভয়াবহ প্রতিচ্ছবির সমূখীন হওয়া এই বাংলার প্রতিটা মানুষ দাবানলের মতো স্বাধীনতার অগ্নিশিখা জ্বালিয়ে তুলে তাদের হৃদয়ে। সেই রাতে বর্বর হামলার শিকার হয়েছিল হাজার হাজার নির্দোষ ও নিরস্ত্র মানুষ। কিন্তু এই নির্মমতা দমিয়ে রাখতে পারেনি বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে। ২৬শে মার্চে স্বাধীনতার ঘোষণায় পূর্ব বাংলার মানুষকে নতুন করে উজ্জীবিত করেছিল। সেই আহ্বান ছড়িয়ে দিয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন এবং সেই একটি স্বপ্ন, যা আজ বাস্তব। আর সেই চেতনা এখনও বেঁচে আছে বাঙালির অন্তরে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তি হয়ে।”

Leave a Response