
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) ‘মেইনস্ট্রিমিং জেন্ডার ইকুয়ালিটি ইন একাডেমিয়া’ (MAGENDA) প্রকল্পের আওতায় ‘স্টেকহোল্ডারস সেনসিটিজেশন ওয়ার্কশপ অন সাউস জেন্ডার ইকুয়ালিটি প্ল্যান (GEP): ইমপ্লিমেন্টেশন, মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন’ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স রুমে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, “জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করা কেবল নারীদের অধিকার নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ একাডেমিক পরিবেশের অপরিহার্য শর্ত। আর জেন্ডার মানেই কিন্তু নারী নয় এখানে নারী-পুরুষ সকলেই অন্তর্ভুক্ত। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। গবেষণায় ও শিক্ষা কার্যক্রমে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করছি যেখানে প্রত্যেকের যোগ্যতা এবং মেধা মূল্যায়িত হবে, কোনো ধরনের লিঙ্গ বৈষম্য ছাড়াই।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা একটি জেন্ডার সেনসিটিভ ক্যাম্পাস তৈরি করতে চাই। তবে জেন্ডার সমতার শিক্ষা শুরু হওয়া উচিত পরিবার থেকে। বাবারা যখন মায়েদের সম্মান দিয়ে কথা বলেন, তখনই সন্তানরা জেন্ডার সমতার প্রকৃত শিক্ষা পায়।” তিনি বর্তমান সময়ের সাইবার বুলিং ও সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবুল বাশার। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধকল্পে গঠিত কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. নাজনীন সুলতানা।
ম্যাজেন্ডা প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুল হক কাজল জেন্ডার ইকুয়ালিটি প্ল্যানের বাস্তবায়ন কাঠামো এবং অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল আলম বেইজলাইন সার্ভের ফলাফল উপস্থাপন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত এই কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরিচালক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।






