
ইবি প্রতিনিধি
ফেসবুকে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক জুনিয়র শিক্ষার্থীকে গালাগালি ও দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইবি শাখার সদস্যসচিব বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী সজীব হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে ফোনে তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
জানা গেছে, সম্প্রতি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আর্জেন্টিনা ফ্যানস ইউনিটির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আসিফ হাসান লিখনকে সভাপতি এবং মনিরুজ্জামান মিমকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কমিটি ঘোষণার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি নবগঠিত কমিটিকে ‘ছাত্রলীগের পুনর্বাসনকৃত আর্জেন্টিনা কমিটি’ বলে উল্লেখ করেন এবং সভাপতি আসিফ হাসান লিখনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন।
ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে সজীব হাসান লেখেন, “বান্ধবীর টাকা মেরে, ডেকোরেশন এর চেয়ার খেয়ে মনে হয় ধান্দা ভুলে গেছে, নিজেও ছাত্রলীগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল।”
এর কিছুক্ষণ পর বিকেলে সজীবের মোবাইল ফোনে কল করেন বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ। এ সময় তিনি সজীবকে গালাগালি করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
অডিওতে বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শকে বলতে শোনা যায়, “তুই তো জুনিয়র। সিনিয়রদের নাম ধরে এভাবে কমেন্ট করিস? তুই যে অভিযোগ করছিস, সেগুলোর প্রমাণ দিবি। আজ সন্ধ্যার মধ্যে প্রমাণ দিতে না পারলে তোর খবর আছে। তোর কোনো বাপই বাঁচাতে পারবে না। আমি বলে দিলাম।”
একপর্যায়ে সজীব হাসান ‘চেয়ার চুরির’ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রসঙ্গ তুললে বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ বলেন, “আমি চেয়ার চুরি করিনি। আমার বন্ধুকে গালি দেওয়ায় চেয়ার জব্দ করা হয়েছিল। ক্যাম্পাসের কোনো বাপই তোকে বাঁচাতে পারবে না।”
অডিওতে আরও তাকে ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন ভাষায় গালাগালি করতে এবং ফেসবুকের মন্তব্য মুছে ফেলতে বলতে শোনা যায়।
ভুক্তভোগী সজীব হাসান বলেন, “একজন সিনিয়রকে নিয়ে করা একটি পোস্টে আমি মন্তব্য করেছিলাম। পরে বাঁধন ভাই আমাকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিষয়টি প্রক্টর স্যারকে জানিয়েছি।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, “আমি ভুক্তভোগীকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”






