জাতীয়

ফারুকীর বিরুদ্ধে অর্থ লোপাটের অভিযোগ, ফেসবুকে পাল্টা ব্যাখ্যা

64views

জুলাই যাদুঘর থেকে কোটি কোটি টাকা লোপাট, পরিচালনা পর্ষদে নিজেকে সভাপতি ঘোষণা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে আলোচনার মধ্যে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন নির্মাতা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী।

সোমবার দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘ফ্রেমিং’ বলে দাবি করেন তিনি।

পোস্টে ফারুকী বলেন, কিছুদিন আগে এক সাংবাদিকের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন একটি গ্রুপ কয়েকজন সাংবাদিককে তার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করার জন্য বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করেছে। সেখানে জুলাই যাদুঘর থেকে ১১০ কোটি টাকা লোপাট, হাজার কোটি টাকা পাচার এবং নিজেকে যাদুঘরের সভাপতি ঘোষণা করার মতো অভিযোগ তুলে সংবাদ করার চেষ্টা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি দাবি করেন, এসব প্রতিবেদনে তথ্য-প্রমাণের চেয়ে অভিযোগকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, “এখন আর সংবাদ তৈরি করতে কোনো তথ্য-প্রমাণ লাগে না, জাস্ট চালায় দাও।”

জুলাই যাদুঘরের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হওয়া নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাবে ফারুকী বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানে মন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পদাধিকার বলে সভাপতি থাকেন। তবে জুলাই যাদুঘরের ক্ষেত্রে তিনি পদাধিকার বলে নন; বরং কিউরিটোরিয়াল ডিরেক্টর ও পরিকল্পনা প্রধান হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি জানান, যাদুঘরের বোর্ড গঠনের সময় প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শ ও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে যাদুঘর চালু না হওয়া পর্যন্ত তাকে সভাপতির দায়িত্বে থাকার সিদ্ধান্ত হয়।

১১০ কোটি টাকার টেন্ডার লোপাটের অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ফারুকী। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট টেন্ডার তার মন্ত্রণালয়ের নয়, বরং পূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে।

ডিপিএম পদ্ধতিতে ডকুমেন্টারি নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালার জন্য সময় কম থাকায় বিধি অনুসরণ করেই বিশেষ পদ্ধতিতে তরুণ নির্মাতাদের দিয়ে কাজগুলো করা হয়েছে। এসব ডকুমেন্টারি ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়েছে এবং দর্শকদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে ফারুকী বলেন, এখনো কোনো নিয়োগই দেওয়া হয়নি। তবে বিশেষায়িত যাদুঘর হওয়ায় বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কিছু বিধান শিথিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

পোস্টের শেষ দিকে ফারুকী বলেন, জুলাই যাদুঘর ও সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টারি তৈরির কারণে তিনি অনেকের বিরাগভাজন হয়েছেন। তবুও ইতিহাস সংরক্ষণের কাজ তিনি চালিয়ে যাবেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রতিক্রিয়া দেবেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে দ্রুতই জুলাই যাদুঘর চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই নির্মাতা।

Leave a Response