ক্যাম্পাস

ইবিতে দুইদিনব্যাপী সায়েন্স ক্লাবের জাতীয় বিজ্ঞান উৎসব অনুষ্ঠিত

92views

তাওহিদ ইসলাম, ইবি প্রতিনিধি:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) সায়েন্স ক্লাবের (আইইউএসসি) উদ্যোগে জাতীয় বিজ্ঞান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১১ মে) ও মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে পূবালী ব্যাংক পিএলসির পৃষ্ঠপোষকতা ও সোহান’স কোচিংয়ের সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। এতে দেশের শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রজেক্ট প্রদর্শনী, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, ট্রেজার হান্ট, রুবিক্স কিউব-সহ বিভিন্ন জ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতা ও ৪ডি ও ৯ডি মুভি শোর আয়োজন করা হয়।

প্রথম দিন বর্ণাঢ্য র‍্যালির মাধ্যমে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। পরে একযোগে এক্সিবিশন হলে প্রজেক্ট শোকেস, সায়েন্স গ্যালারিতে পোস্টার প্রেজেন্টেশন, সেমিনার রুমে থ্রি মিনিট প্রেজেন্টেশন এবং ইনডোর গেমস রুমে দাবা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মূল অডিটোরিয়ামে সায়েন্স বিঙ্গো এবং থিয়েটার রুমে ৪ডি ও ৯ডি মুভি শো অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বিতীয় দিন বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ও রুবিক্স কিউব প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়।ক্যাম্পাস জুড়ে ট্রেজার হান্ট এবং বিকেলে মুভি শো অনুষ্ঠিত হয়। পরে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আয়োজনটি সম্পন্ন হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সভাপতি জুনাইদুল মোস্তফার সভাপতিত্বে উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নকীব মুহাম্মদ নসরুল্লাহ, বিশেষ অতিথি ট্রেজারার প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম, ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে পূবালী ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাহনেওয়াজ খান ও ‘চীফ প্যাট্রন’ হিসেবে সংগঠনটির উপদেষ্টা ও ইবি আইসিটি সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. শাহজাহান আলী উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজক ও উৎসবে বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে ভিসি প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, সায়েন্স ক্লাবের এ আয়োজন পূর্ণতা পেত না, যদি না বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা এখানে অংশগ্রহণ করতো। আমরা আশির দশকে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম আর এখন ত্রিশের দশকে যারা কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ো তাদের মধ্যে অনেক পার্থক্য। এই পার্থক্য হচ্ছে চিন্তার পার্থক্য। এই পার্থক্য আনয়নে সহযোগিতা করেছে বিজ্ঞানের জ্ঞান। এটি আসলে সমাজ পরিবর্তনের জন্য ইনস্ট্রুমেন্ট। এজন্য আমরা যত বিজ্ঞান চর্চা করব, সমাজ তত এগিয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, তোমাদের যে ইনোভেটিভ আইডিয়া, চিন্তা করতে শেখা, জ্ঞানকে অব্যাহত রাখার জন্য ও জ্ঞানের দ্বারা কোনোকিছু সৃষ্টি করার জন্য এটি অতিব প্রয়োজনীয় বিষয়। আমাদেরকে পড়তে হবে, ভাবতে হবে ও তৈরি করতে হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু পাঠমুখী নয়, বরং গবেষণামুখী হওয়া প্রয়োজন। এই ধরনের আয়োজনগুলো খুবই ইনস্পায়ারিং। এ ধরনের বিজ্ঞান মেলা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণামুখী মানসিকতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Leave a Response