ক্যাম্পাস

চারবার ব্যর্থতার পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর স্টার্টআপ ‘সুপারজেন’

93views

হাবিপ্রবি প্রতিনিধি

চারবার ব্যর্থ হওয়ার পরও থেমে যাননি। প্রতিবারই নতুন উদ্যমে শুরু করেছেন। সেই অধ্যবসায়ই এবার হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) অর্থনীতি বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আসিফ মাহমুদকে পৌঁছে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। তার প্রতিষ্ঠিত সামাজিক উদ্যোগভিত্তিক স্টার্টআপ SuperGen এবার জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) আয়োজিত imaGen Ventures Global Challenge 2026-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছে।

এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অংশ নিয়ে গ্লোবাল ফান্ডিং, আন্তর্জাতিক মেন্টরশিপ এবং বৈশ্বিক নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ অর্জনের লক্ষ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে সুপারজেন।

আসিফ মাহমুদের উদ্যোক্তা হওয়ার পথটি সহজ ছিল না। গত বছর imaGen Ventures Youth Challenge-এ রংপুর বিভাগের ১৩২টি দলকে পেছনে ফেলে বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হয় সুপারজেন। পরে জাতীয় পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের ১৬টি সেরা দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে সাফল্যের পথে আসে বড় ধাক্কাও। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইউনিসেফ বাংলাদেশ থেকে জানানো হয়, গ্লোবাল রাউন্ডে মাত্র একটি দল অংশ নেবে এবং সেই তালিকায় সুপারজেন নেই। এরপরও হতাশ না হয়ে নিজেদের কাজ চালিয়ে যান আসিফ ও তার দল। প্রায় ছয় মাস পর ইউনিসেফ বাংলাদেশ নতুন সিদ্ধান্ত নেয়—একটির পরিবর্তে দুটি দল গ্লোবাল রাউন্ডে অংশ নেবে। আর দ্বিতীয় দল হিসেবে নির্বাচিত হয় সুপারজেন।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যও অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের অর্থায়নে পরিচালিত GO4IMPact কর্মসূচির অধীনে Blue Business Idea Competition-এর মাধ্যমে WaterAid Bangladesh ও Swisscontact Bangladesh-এর সঙ্গে একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের চুক্তি করেছে সুপারজেন।

চুক্তির প্রথম ধাপে প্রতিষ্ঠানটির হাতে তিন লাখ টাকার বেশি মূল্যের চুক্তিপত্র হস্তান্তর করা হয়েছে। ছয় লাখ টাকার বেশি ব্যয়ের এ প্রকল্পের আওতায় আগামী অক্টোবরের মধ্যে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ১০০টি পরিবারের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

এ ছাড়া WaterAid Bangladesh আয়োজিত BLUE Business Idea Competition-এ জাতীয় পর্যায়ে সেরা সাতটি দলের একটি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে সুপারজেন।

নিজের উদ্যোক্তা জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, বর্তমান উদ্যোগের আগে তিনি চারটি স্টার্টআপে ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু প্রতিটি ব্যর্থতা তাকে নতুনভাবে শুরু করার সাহস জুগিয়েছে। তার ভাষায়, “হাল না ছেড়ে আরেকবার চেষ্টা করার মানসিকতাই আজ আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি দেশের শিক্ষা নেতৃত্ব উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান Teach For Bangladesh-এর ফেলোশিপেও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

আসিফ তার এই সাফল্যের পেছনে GO4IMPact-এর প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট মো. সাইদুজ্জামান পুলাকের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি তার টিম সদস্য রফিকুল ইসলাম রাকিব, রাইজুল ইসলাম তানভীর, খায়রিন মির্জা, তানজিলা ইসলাম রিফা এবং বিজনেস মডেলিং ও ফান্ডরেইজিংয়ে সহযোগিতাকারী ওমর ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকেই আন্তর্জাতিক মানের সামাজিক উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উদ্যোগ গড়ে তোলা সম্ভব—হাবিপ্রবির শিক্ষার্থী মো. আসিফ মাহমুদের এই সাফল্য সেই সম্ভাবনারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

Leave a Response